• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

প্রাণভিক্ষা নিয়ে আইনমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ

126128_1সিসি নিউজ: সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ফাঁসির আগে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন কিনা তা নিয়ে বিতর্ক এখনো চলছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলছেন, দুই জনের স্বহস্তে লেখা আবেদন তিনি দেখেছেন যার বিষয় হিসেবে লেখা ছিল সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ মোতাবেক ক্ষমা প্রার্থনা প্রসঙ্গে।

তবে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের পরিবারের সদস্যরা সরকারের এ দাবী এখনো অস্বীকার করছেন।

মুজাহিদের ছেলে বলছেন, তারা বাবা চিঠি একটি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতিকে তবে তা বিচার ব্যবস্থার অসঙ্গতি নিয়ে, ক্ষমা চেয়ে নয়।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক রবিবার স্পষ্ট করেই বলছেন, দুই জনের আবেদন পত্র তিনি দেখেছেন এবং সেখানে স্পষ্ট করে লেখা ছিল সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমা প্রার্থনা প্রসঙ্গে।

তবে মুজাহিদের ছেলে দাবী করছেন, কারা কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে তার বাবা চিঠি একটি লিখেছিলেন, তবে সেটা কোনো আবেদন নয়, এবং কোনো ক্ষমা প্রার্থনাও তিনি করেননি।

শনিবার সারাদিনই সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন নিয়ে বিতর্ক চলেছে।

রাতে সা.কাদেরের পরিবারের সদস্যরা কারাগারে তার সঙ্গে শেষ দেখা করে আসার পর তার ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর ছেলে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, তার বাবা প্রাণভিক্ষা চাওয়ার খবর উড়িয়ে দিয়েছেন।

একই রকম বক্তব্য তখন দিয়েছিলেন মুজাহিদের ছেলে আলী আহম্মেদ মাবরুরও।

কিন্তু দণ্ড কার্যকরের পরদিনও এ নিয়ে বিতর্ক থামছে না। দুই দণ্ডপ্রাপ্তের পরিবারের সদস্যরা রবিবারও সারাদিন ধরে এটাকে সরকারের একটি অপকৌশল বর্ণনা করে বক্তব্য দিয়েছেন।

এই প্রেক্ষাপটে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘আবেদনের মধ্যে পরিষ্কার লেখা ছিল বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমা প্রার্থনা প্রসঙ্গে, তো এর থেকে আর কি থাকতে পারে বলুন। একেবারে নিজে হাতে, একজন বাংলায় লিখেছেন একজন ইংরেজিতে লিখেছেন। রাষ্ট্রপতির কাছে যখন ৪৯ অনুচ্ছেদের একটি পিটিশন যায়, এটা কিন্তু ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়া আর কিছু না’।

তবে মুজাহিদের ছেলে মাবরুর বিবিসিকে বলছেন, তার বাবা চিঠি একটি লিখেছেন তবে সেটা কোনো আবেদন নয়, সেটা ছিল তার ভাষায় একটি ‘নোটিফিকেশন লেটার।’

তিনি বলেন, ‘এটাকে আবেদন বলা যাবে না এজন্য যে ওনার এখানে কোনো আবেদন ছিল না। যেহেতু জেল কর্তৃপক্ষ ওনাকে চাপ দিয়েছে, উনি বলেছেন, আমি এই বিচারের অসঙ্গতিগুলো এবং আমার ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকারগুলোর ক্ষেত্রে যে বঞ্চিত করা হয়েছে, এই বিষয়গুলোকে নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে একটা চিঠি দিয়েছি। উনি বলেছেন আমার কোনো প্রয়োজন নেই তার কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার এবং আমি সেটা করিনি’।

মাবরুরের এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে আইন মন্ত্রী বলছেন, সংবিধান মোতাবেক ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়া কোনো ফাঁসির আসামীর জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আর কোনো রকম কোনো আবেদন করার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘বিচার ব্যবস্থার যদি ত্রুটি থাকেই সেটা ওনারা কোর্টে বলতে পারতেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে লেখার কোনো অবকাশ নেই। আমরা যারা এই দরখাস্তটা দেখেছি, আমরা বলছি, ওনারা যদি দরখাস্তটা দেখে থাকেন, ওনাদের কাছে যদি দরখাস্তের কপি থেকে থাকে, দয়া করে ওনারা যেন দেখান যে এটা আর্টিকেল ৪৯ এর আন্ডারে কোনো পিটিশন ছিল না, তাহলেই হোক, আর আমারটা তো আমার কাছে আছেই। আমার মুখের কথাই যথেষ্ঠ’।

সংবিধানের আলোচ্য ৪৯ অনুচ্ছেদে বলা রয়েছে, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের দেয়া যে কোনো দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করবার এবং যে কোনো দণ্ড মওকুফ স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ