সিসি ডেস্ক : দেশের শীর্ষ দুই যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় মধ্য দিয়ে দেশ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় ধাপ অতিক্রম করেছে। আজ রবিবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্যরা বলেন, এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার জন্য। তারা মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এজন্য শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
পয়েন্ট অব অর্ডারে একই বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সরকারি দলের সদস্য ডা. দীপু মনি, ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম, শামীম ওসমান, আব্দুল মান্নান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আব্দুর রহমান ও স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা না হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এদেশে হতো না। তিনি যা বলেন তা করেন। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় গিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন। আবার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যারা খুন করেছে, লুটপাট করেছে, মানুষের বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে তাদের বঙ্গবন্ধু ক্ষমা করেননি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির কপালে যে কলঙ্কের তিলক, তা মোচনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক যেসব সংস্থা এই বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা একাত্তরে কোথায় ছিলেন, যখন দেশের মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছিল। আসলে তারা কখনো এদেশের স্বাধীনতা চায়নি। তারাই যুদ্ধের সময় সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল। তিনি বলেন, হিউম্যান রাইটস মুক্তিযুদ্ধকে সিভিল ওয়্যার বলে। তারা কি সিভিল ওয়্যার আর মুক্তিযুদ্ধ কি তা বুঝেন না? নিশ্চয়ই বুঝেন। জেনেশুনেই তারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েছে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান শুধু দালাল আইন বাতিল করে দালালদের রক্ষা করেনি, সে শতশত মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসি দিয়েছে। সে কর্ণেল তাহেরকে ক্যাঙ্গারো কোর্টের মাধ্যমে ফাঁসি দিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করবে। গতকাল এই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একধাপ অতিক্রম করেছে।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মুক্তিযোদ্ধা নামধারী জিয়াউর রহমান দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে। এক দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, অপর দিকে রাজাকারদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি বলেন, এই বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। এই বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ নেই। লুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালে আপিলের সুযোগ না থাকলেও এদেশে যুদ্ধাপরাধীরা বিচারের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছে।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, অপরাধীদের বিচার না করার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল এই বিচার বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে আইনের শাসনের পথে একধাপ এগিয়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণকে দেয়া নির্বাচনী অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন। সকল বিধি বিধান মেনে এই বিচার করা হয়েছে। আসামীরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় ও সুযোগ পেয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আসামীদের স্বহস্তে লিখিত ক্ষমা প্রার্থনা প্রকারান্তরে তাদের আদালতের ন্যায্যতা স্বীকার করে নেয়াই প্রমাণ করেছে। তিনি বলেন, এই বিচারের মাধ্যমে কোন বিরোধী দলের নেতাকে হত্যা করা হয়নি। একাত্তর সালের রাজাকারের বিরুদ্ধে আদালত যে শাস্তি দিয়েছে, সরকার শুধু তা কার্যকর করেছে মাত্র।