ঢাকা: বিনা দোষে জেল খাটলেন। জেল থেকে মুক্তি পেলেন ১৯ তারিখ বিকালে। পরদিনই পরীক্ষায় বসলেন। রেজাল্ট শেষে দেখা গেলো তিনিই ফার্স্ট ক্লাস। তিনি জাকিয়া সুলতানা। অদম্য ফাউন্ডেশনের কর্মী। ৩৮ দিন জেল খাটার পরও ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে প্রমাণ করলেন, তিনি সত্যিই অদম্য। জাকিয়া সরকারি তিতুমীর কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের ছাত্রী। জেলে থাকার সময় তার অনার্স পরীক্ষা চলছিল।
অনার্সের লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর জাকিয়া প্রাকটিক্যাল ক্লাস করছিলেন। এ অবস্থায় গত সেপ্টেম্বরে মানবপাচারের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জাকিয়ার সঙ্গে আটক হন অদম্য ফাউন্ডেশনের আরও তিন তরুণ। এরপর ২ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে তাদের স্থান হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।
এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের হস্তক্ষেপে ১৯ অক্টোবর বিকালে তারা মুক্তি পান। পর দিনই ভাইবা ও প্রাকটিক্যাল পরীক্ষায় অংশ নেন জাকিয়া।
জাকিয়া জানালেন, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। জেলে থাকার সময় মনে হচ্ছিল আমার আর লেখাপড়া হবে না। আমার সবকিছুই থমকে গেল। কিন্তু দমে যাইনি। মুক্তি পাওয়ার পর দিনই আমি পরীক্ষায় বসি। জেলে থাকার সময় প্রাকটিক্যাল ক্লাস করতে পারিনি, কোনও প্রিপারেশনও নেওয়ার সময় পাইনি। এতদিন জেল খাটার পর যতটুকু জীবনীশক্তি অবশিষ্ট ছিল, তাই দিয়েই আমি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। আজ আমি সফল হওয়ায় আনন্দিত। সবার দোয়া প্রার্থনা করছি। যারা আমার মুক্তির জন্য কাজ করেছেন তাদেরও ধন্যবাদ দিচ্ছি।
জাকিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম একটি বেসরকারি এনজিওতে কাজ করেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আবেগে কথা বলতে পারছিলেন না। বাকরুদ্ধ কণ্ঠে জানালেন, আমি খুব খুশি। আমার মেয়ের জন্য দেশবাসীর দোয়া চাইছি।