• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

মিলনের আত্মা কাঁদে, স্বৈরাচার হাসে

ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান।। ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান ।। অস্টম শ্রেণীতে পড়ি, বৃত্তিপরীক্ষা সামনে।তাই স্কুল বোর্ডিংয়ে থেকেই লেখাপড়া করছি।রাজনীতি তেমন বুঝি না, লেখাপড়া আর খেলাধূলাই নিত্যদিনের রুটিন। এরপরও সময় ১৯৯০ সালের শেষপ্রান্ত, চারদিকে প্রতিদিনই শোনা যাচ্ছে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের গুঞ্জন।

২৭ নভেম্বর, সম্ভব তখন বেলা ১১টা, স্কুল বোর্ডিংয়ে আমরা সবাই লেখাপড়ায় ব্যস্ত। হঠাৎ স্কুলের পাশ দিয়ে মিছিলে ‘মিলন ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে পারে না, ‘এরশাদ তুই গদি ছাড় নইলে তোর রক্ষা নাই’ স্লোগান শোনে আমরা সবাই দৌড়ে বের এসে মিছিলে যোগ দেই। শুধু আমরা ছাত্ররাই নই, নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ, শ্রমিক-কৃষক সবাই সেদিন মিছিলে অংশ নেন।কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি বিজড়িত দরিরামপুর-ত্রিশাল হয়ে উঠে অগ্নিগর্ভ।আর এভাবেই রাজনীতির মাঠে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আমার জীবনের প্রথম মিছিল।

এখনও স্মরণে আছে, ডা. মিলনকে গুলি করে হত্যার খবরে সেদিন সারাদেশ অগ্নিগর্ভ উঠেছিল।সেদিন থেকেই সবাই দিনক্ষণ গুনতে থাকেন এরশাদের বিদায়ের। অবশ্য আমাদেরকে বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে ৬ ডিসেম্বর বেজে উঠে স্বৈরাচার এরশাদের বিদায়ের ঘন্টা।

আজ সেই শহীদ ডা. মিলন দিবস।৯০’র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বে বিএমএ’র ২৩ দফা দাবি ও গণবিরোধী স্বাস্থ্যনীতি বাতিলের চলমান আন্দোলনের এক পর্যায়ে পিজি হাসপাতালে একটি চিকিৎসক সমাবেশে যোগ দিতে রিকশায় যাওয়ার পথে টিএসসির সামনে ডা. মিলন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।আর মিলনের রক্তে আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়।

সম্ভবত এদিনেই সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীও গুরুতর আহত হয়েছিলেন।ফলে এদিন থেকেই এরশাদের পতন না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে সংবাদপত্র ধর্মঘটের ডাক দেয় সাংবাদিক সমাজ।এর এক সপ্তাহ পরেই বেজে উঠে স্বৈরাচারের বিদায়ের ঘন্টা।বহু ছাত্র-শ্রমিকের রক্তে হাত ভেজানো এরশাদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগে বাধ্য হয়।পরের বছর থেকে স্বৈরাচার বিরোধী ও গণতান্ত্রিক সংগঠনসমূহ ২৭ নভেম্বর দিনটিকে শহীদ ডা. মিলন দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

এবার এমন এক সময়ে শহীদ ডা. মিলনের ২৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী পালিত হচ্ছে যখন দেশ এক রাজনৈতিক চরম ক্রান্তিকাল পার করছে।যেখানে গণতন্ত্রের নামে ডা. মিলন হত্যাকারী সেই এরশাদকেই সঙ্গী করে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে যে দেশে অবাধে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী তৎপরতা চালাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী-সম্প্রসারণাবাদী-আধিপত্যবাদী নানা শক্তি।সেদিকে কী আমাদের দৃষ্টি আছে?

অন্য বছরের ন্যায় আজকেও শহীদ মিলন দিবস উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনসহ বিশিষ্টজনরা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি নিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠন।অনেকেই শহীদ মিলনের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। অনেকেই বলছেন, স্বৈরাচারী গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে ডা. মিলন আমাদের প্রেরণার উৎস।কিন্তু তাতে কী আজ শহীদ মিলনের বিদেহী আত্মা শান্তি পাচ্ছেন, না কষ্ট পাচ্ছেন? তা কি আমরা একটু ভেবে দেখেছি?

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের এ ধরনের আচরণে শহীদ মিলনের বিদেহী আত্মা কোনোভাবেই শান্তি পেতে পারে না।কেননা, যে স্বৈরাচারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য ডা. মিলন আত্মত্যাগ করে গেলেন, আজ আমরা সেই খুনি স্বৈরাচারের সাথেই আঁতাত গড়েছি।সেই খুনিই আজ রাষ্ট্রীয় বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়ে মুচকি হাসে আর বলে তোমাদের শাসনের চেয়ে আমার শাসন বেশি ভাল ছিল। শহীদ ডা. মিলনের সাথে এর চেয়ে আমাদের বড় প্রতারণা আর কী হতে পারে!হায়রে ক্ষমতা, হায়রে রাজনীতি!তোমার জন্য আমরা সব কিছুই করতে পারি, শহীদদের রক্তের সাথেও বেঈমানী করতে কুণ্ঠাবোধ করি না!তাই সবশেষে বলবো, এই দিনে শহীদ ডা. মিলনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর নামে জাতির প্রতারণা বন্ধ হওয়া উচিত।অন্যথা শহীদ মিলনের আত্মি কোনোভাবেই শান্তি পেতে পারে না।

লেখক: গবেষক এবং কলাম লেখক। ই–মেইল:sarderanis@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ