পীর হাবিবুর রহমান: প্রিয় পাঠকগণ, আপনাদের অভিবাদন। লেখার শুরুতেই ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে অনুরোধ করছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক খুলে দিতে। তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবের এই যুগে দুনিয়া যখন মানুষের হাতের মুঠোয় তখন ফেসবুক বন্ধ রাখার কারণে দেশের মানুষের দম বন্ধ অবস্থা। একজন আধুনিক মানুষ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের এটি উপলব্ধি করার কথা। যেখানেই যাচ্ছি ফেসবুক নিয়ে সব বয়সী মানুষের মধ্যে শ্বাসরুদ্ধকর অস্থিরতা দেখতে পাচ্ছি। সমাজ জীবনে মানুষের ছন্দপতন ঘটিয়েছে এ ঘটনা। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ দমনের জন্য সরকারের শক্তির সঙ্গে জনগণের শক্তিকে এক সুতোয় বাঁধতে হলেও ফেসবুক খুলে দেওয়া এখন জরুরি। প্রতিটি মানুষ চাইছে আর বিলম্ব নয়, এখনি খুলে দিন। ফেসবুক কর্তৃপরে সঙ্গে চুক্তি নিয়ে চিঠি লেখালেখির সংবাদ মানুষের মাঝে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। আশা করি তিনি বুঝবেন। তারানা হালিমের কাছ থেকে একজন নাগরিক হিসেবে মানুষ চিঠি চাইছে না। একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ফেসবুক খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।প্রিয় পাঠকগণ, দেশবরেণ্য বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অনেকে এ চ্যালেঞ্জে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, বিভিন্ন করপোরেট হাউসের আলোকিত মুখগুলো যেভাবে সাহায্য করেছেন তাতে আমি অভিভূত। বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব স্নেহের ঋণে বন্দি করেছেন। সারা দেশের প্রতিনিধিদের সম্মিলনে ও সংবাদকর্মীদের কর্মশালায় প্রশিণ দিয়ে বন্ধুবর সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, সামিয়া রহমান, পলাশ আহসান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক আর রাজি সাহায্য করেছেন। প্রবাসের মুখগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
প্রিয় পাঠকগণ, বাংলাদেশ প্রতিদিনে থাকাকালীন আমাদের ভাই বন্ধু, পরম আপনজন ডাক্তার জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু ব্রেইন টিউমারে অকাল মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুকে ঘিরে তার প্রথম তারুণ্যের হাত ধরে বেড়ে ওঠা বন্ধু মোজাম্মেল বাবু এবং প্রয়াতের স্ত্রী খুজিস্তা নুর ই নাহরীন মুন্নীকে এই অকাল মৃত্যু নিয়ে লিখতে অনুরোধ করি। খুজিস্তা নুর ই নাহরীন মুন্নী তার ১৮ বছরের জীবনসঙ্গী ডাক্তার জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকুকে নিয়ে একটি হৃদয়স্পর্শী লেখা পাঠান। সেটি ছাপা হওয়ার পর ক্যানসারে অকালে চলে যাওয়া আরেক চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম টেলিফোন করে লেখিকার টেলিফোন নাম্বার নিয়ে যোগাযোগ করেন। তিনি চেয়েছিলেন, এই লেখার ওপর ভিত্তি করে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন। ঘাতক ক্যানসার তাকে সেই সুযোগ দেয়নি। টিংকুর বাড়ির মেঝেতে তার ফোঁটা ফোঁটা অশ্রুবিন্দু শুধু দীর্ঘশ্বাসের স্মৃতিচিহ্ন হয়ে রয়েছে। সেই থেকে আমার দেখা এক আত্মপ্রত্যয়ী সংগ্রামী বিদুষী নারী খুজিস্তা নুর ই নাহরীন নিয়মিত লেখালেখিতে আসেন। একদিন তিনি আলাপকালে আগামীতে প্রিন্ট মিডিয়ার বদলে অনলাইন মিডিয়া জনপ্রিয়তা পাবে বলে মন্তব্য করেন। পশ্চিমা দুনিয়ায় ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে প্রিন্ট মিডিয়া মুখ থুবড়ে পড়লেও দণি এশিয়ায় প্রিন্ট মিডিয়া মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বলে তর্কে জিতে যাই। সেই বিতর্কের অনেকদিন পর দেখা যায় পশ্চিমা দুনিয়াই নয় দণি এশিয়া এমনকি বাংলাদেশেও অনলাইন মিডিয়া মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। সরকার নীতিমালা প্রণয়নের তোড়জোড় শুরু করেছে। অন্যদিকে প্রিন্ট মিডিয়া থেকে বেরিয়ে আসার মধ্য দিয়ে ভেতরে তৈরি হওয়া একগুঁয়ে, পোটে, জেদি, সৃষ্টিশীল মনে নিজের মতো করে দাঁড়ানোর তাড়া দেয়। নিজের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় আমার চিন্তায় নিউজ পোর্টাল ঠাঁই পায়। সেই বীজ ডালপালা মেলতে শুরু করে যখন গেল কোরবানির ঈদে লন্ডন ও নিউইয়র্ক সফরে যাই। প্রবাসী সতীর্থদের সঙ্গে এ নিয়ে আমার কথাবার্তা হয়। দুনিয়াজুড়ে যেখানেই যাই বিমানবন্দর থেকে শপিং মল, হোটেল লবি সবখানেই মুঠোফোনে অনলাইনে খবর পাঠ এক চেনা দৃশ্য হয়ে গেছে।
দেশে ফিরে আমার সিদ্ধান্ত চূড়া›ন্ত করে বনানীতে স্থপতি শাকুর মজিদের অফিসে যাই। সেখানের আড্ডায় যেতে ফোনটি করেছিলেন সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা। অস্থির পায়চারী করতে করতে বললাম, এবার নিজেই কিছু করব। তারা দুজন তাকালেন। বললাম নিউজ পোর্টাল অনলাইন। শাকুর মজিদ একটি নাম বললেন। আমার পছন্দ হলো না। বললাম, পূর্বপশ্চিম। ইশতিয়াক রেজা ও তিনি সমর্থন দিলেন। সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন। পূর্ব দিগন্তে সূর্য ওঠে পশ্চিমে লাল আভা ছড়াতে ছড়াতে তামাম দুনিয়ায় কত খবর ঘটে যায়! শুধু কি তাই? প্রিয় লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পূর্ব পশ্চিম নামে যে ইতিহাস নির্ভর উপন্যাস লিখেছেন সেটি আমাদের অহঙ্কার। শাকুর মজিদ কাকে জানি ফোন করলেন। সঙ্গে সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডে ডোমেইন কিনে দিলেন। তারপর প্রিন্স ও রায়হান হয়ে একটি স্বপ্নের পূর্ণতা পেল ধীরে ধীরে। এখানে সাবেক ছাত্র নেতা আব্দুল্লাহিল কাইয়ুম উৎসাহ দিয়ে বললেন, নামেই অর্ধেক এগিয়ে গেছেন আপনি। আমার এ যাত্রাপথে ভালবাসা ও হৃদয় দিয়ে যারা সাথী হয়েছেন তাদের ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়।
প্রিয় পাঠকগণ,
মার্কিন সংবাদপত্র অ্যাসোসিয়েশন জরিপ করে বলেছে ২০৫০ সালে পৃথিবীতে প্রিন্ট মিডিয়া থাকছে না। সানডে টাইমস জরিপ করে বলেছে ইংল্যান্ডে ৫ বছর পর প্রিন্ট মিডিয়া থাকবে না। আমাদের দেশে প্রিন্ট মিডিয়া কম হলেও আরও দুই যুগ থাকবে। যদিও অনেকে বাড়িয়ে বলছেন আগামী দিনে অনলাইন টিভির কাছে ইলেকট্রনিক মিডিয়াও মুখ থুবড়ে পড়বে।
প্রিয় পাঠকগণ,
বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এখন অনলাইন মিডিয়াকে শক্তিশালী গণমাধ্যমে রূপ দিয়েছে। তারুণ্যের এ শক্তির ওপর ভর করে আমাদের চ্যালেঞ্জ পিছিয়ে না থাকার। একুশ শতকের কোন সংবাদপ্রধান, এই স্লোগান নিয়ে বহুরৈখিক সংবাদ, মতামত, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি, প্রশাসন, অপরাধ জগৎ নিয়ে সব মত-পথের মহাসম্মিলনে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মুক্তচিন্তার প্লাটফর্ম হচ্ছে পূর্বপশ্চিমবিডি ডটকম।
আমাদের স্বপ্ন আকাশছোঁয়া। অর্ধেক জীবন পার করে নেওয়া এ চ্যালেঞ্জে আপনারা পাশে থাকুন, সর্বাত্মক সহযোগিতা করুন, আমরা আপনাদের নিয়ে পূর্বপশ্চিম বিডি ডটকমের পথ চলতে শুরু করেছি। আপনারা লিখুন, আপনারা মতামত দিন, আপনারা পরামর্শ দিন, মানুষের শক্তির চেয়ে কোনো শক্তিকে আমরা বড় মনে করি না। মহাত্মা গান্ধী বলেছেন, অপর পরে মতামত গ্রহণ করার মানসকিতা না থাকলে গণতন্ত্রেও বিবর্তন সম্ভব নয়।
একজন দার্শনিক বলেছেন, সত্য কারও একার সম্পদ নয়। প্রিয় পাঠক, সত্য জানার আগ্রহ অধিকার প্রতিট নাগরিকের। প্রতিটি মানুষের। খবর বন্ধ রাখার কোন সুযোগ আজকের দুনিয়ায় নেই। আপনাদের কাছে অঙ্গীকার করছি আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমাজে বিশ্বাসী। এমন সময় আমরা এসেছি যখন দেশ নয়, দুনিয়াজুড়েই ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ছে। এক শ্বাসরুদ্ধকর প্রতিকূল পরিস্থিতি অতিক্রম করছে বিশ^। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহঙ্কার। সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে আমাদের আপস নেই। আপনাদের কথা দিচ্ছি আপনাদের মতামত আমরা প্রাধান্য দেব। আপনাদের সমালোচনার জবাব দেব। গালমন্দটুকু শুধু মুছে দেব। নির্মোহ সত্য প্রকাশে দ্বিধাহীন যেমন থাকব, তেমনি কার প্রতি ব্যক্তিগত রাগ-ােভ বা বিদ্বেষ নিয়ে মনগড়া রিপোর্টে যাব না। বিশ্ব সংসার তন্ন তন্ন করে আপনাদের সামনে যেমন পূর্ণসত্য উপস্থাপন করব তেমনই আমাদের সাফল্যের অংশীদার করব দেশ ও মানুষকে। আপনারা আস্থা রাখুন, সঙ্গে থাকুন।
লেখক : প্রধান সম্পাদক : পূর্বপশ্চিমবিডি ডটকম, কলামনিস্ট