সিসি ডেস্ক: শিক্ষকের চপেটাঘাতের অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে নারায়ণগঞ্জ শহরের গণবিদ্যা নিকেতন স্কুলের ছাত্রী উম্মে হাবিবা শ্রাবনী (১৫)। তবে মৃত্যুর আগে সে লেখে গেছে এক সুইসাইড নোট। এ মৃত্যুর জন্য শ্রাবনী দায়ী করে গেছে তার স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিন বেগম ও খণ্ডকালীন শিক্ষক কামরুল হাসান মুন্নাকে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আত্মহনকারী উম্মে হাবিবা শ্রাবনীর ময়না তদন্ত শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। শ্রাবনী গণবিদ্যা নিকেতন স্কুলের নবম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ ছালাপট্টি এলাকার মো. হাবিবউল্লার মেয়ে। তার মা শহরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল সংলগ্ন মাতৃসদনের নার্স সেতারা বেগম। দুই ভাইয়ের এক বোন ছিল শ্রাবনী।
ময়না তদন্তের পর হাসপাতালে দাঁড়িয়ে মেয়ের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সেতারা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে লিখে গেছে- প্রিয় মা আমাকে মাফ করে দিও…। স্যারের অপমান সহ্য করতে না পেরে এ কাজ করছে সে। আমার মায়েরে সুইসাইড করতে বাধ্য করছে ওই স্যার-ম্যাডাম।’
বিলাপ করতে করতে তিনি আরো বলেন, ‘নাসরিন মিস আর মুন্না স্যারের অপমানের কথা লিখে গেছে সে। ওই নাসরিন মিসেরও তো সন্তান আছে, মুন্না স্যারও তো কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। আমার মেয়ে কোনো ভুল করলে আমাকে বলতো, আমারে ফোন দিতো। আমি তার বিচার করতাম। আমার মেয়েরে কেন এমন করলো। কেন সে আমারে ছেড়ে গেলো।’
শ্রাবনীর মামতো ভাই জনি বলেন, ‘স্কুলে শ্রাবনী কোনো অপরাধ করলে অবশ্যই তার পরিবারকে জানাতে পারতো তারা। এভাবে একটি মেয়েকে অপমান-অপদস্থ করার কোনো নিয়ম নেই। শ্রাবনীর মৃত্যুর জন্য স্কুলের ওই দুই শিক্ষক-শিক্ষিকাই দায়ী। তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। শুধু তাই নয় এ ধরনের শিক্ষক-শিক্ষিকাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।’
স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘স্কুলে আমাদের মেয়েও পড়ালেখা করে। শ্রাবনী আমার নিজের মেয়ের মতো। ওই দুইজনের (অভিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা) বিরুদ্ধে শ্রাবনীর পরিবার কি করবে সেটা আমরা বলতে পারি না। কিন্তু আমরা স্কুল কমিটির পক্ষে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। যাতে করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা আর না করতে পারে। এ নিয়ে শনিবার স্কুলে মিটিং বসবে, সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে।’
স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জানে আলম বলেন, ‘শুক্রবার সকালে আমরা একটি সুইসাইড নোট পেয়েছি। যেখানে ওই দুইজন শিক্ষক-শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে শ্রাবনী। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাদের স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হবে।’
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার শহরের গণবিদ্যা নিকেতনের বার্ষিক পরীক্ষার পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নেয় উম্মে হাবিবা শ্রাবনী। পরীক্ষা চলাকালীন অসদুপায় (নকল) অবলম্বনের অভিযোগে তাকে আটক করে হল পরিদর্শক নাসরিন বেগম। পরে তাকে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ওই কক্ষে অবস্থান করা স্কুলের খণ্ডকালীন শিক্ষক কামরুল হাসান মুন্না শিক্ষার্থী শ্রাবনীকে চড় থাপ্পড় মারেন এবং গালমন্দ করে পরিবারের কাছে অভিযোগ করা হবে বলে জানান। পরে ওইদিনের পরীক্ষা থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এ অপমান সাইতে না পেরেই শ্রাবনী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ তার পরিবারের।