ঢাকা: সারাদেশে জেঁকে বসেছে শীত। যা কোথাও কোথাও শৈত্যপ্রবাহে রুপ নিয়েছে। এই শৈত্যপ্রবাহ বৃহস্পতিবার ২১টি জেলায় বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃহস্পতিবার বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের একটি বর্ধিতাংশ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য অতিক্রম করে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার পুরো রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অঞ্চলগুলো ছাড়িয়ে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
বুধবার ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের তুলনায় রাজশাহী, রংপুর বিভাগের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেছে। বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রাজশাহী বিভাগের বাদলগাছি শহরে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রাও হঠাৎ করে অনেক নিচে নেমে গেছে। গত মঙ্গলবারও রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ছিল। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাপমাত্রা নেমে ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে।
টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর এলাকায় তাপমাত্রা কমে গেলে এর একটি প্রভাব পড়ে ঢাকায়। বুধবার টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ১০.৫ ও ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর বিভাগ এবং রাজশাহী ও নওগাঁ অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
রাজশাহী বিভাগের অবশিষ্টাংশে এবং টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে তা বিস্তার লাভ করতে পারে। সারা দেশের রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বুধবার সারা দিনই আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন এবং কুয়াশায় ঢাকা। বিশেষ নদী অববাহিকায় কুয়াশার ঘনত্ব ছিল অপেক্ষাকৃত বেশি।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।
কুয়াশার কারণে রাতে চলাচলকারী যানবাহন বিশেষ করে দূরপাল্লার বাসের গতি বেশ কম থাকায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে একটু বেশি সময় লাগছে।
এ ঠাণ্ডা আবহাওয়ার মধ্যে দেশের কোনো কোনো এলাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত হয়েছে অবশ্য তা রেকর্ড করার মতো ছিল না। তবে কক্সবাজার শহরে বুধবার ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, ঢাকা শহরে দুদিন আগেও তেমন শীত অনুভূত হয়নি। কিন্তু শৈত্যপ্রবাহের মাধ্যমে হলেও নগরবাসী উপভোগ করছেন বছরের প্রথম শীত। ফলে কদর বেড়েছে গরম কাপড়ের। যার যার সাধ্যমতো গরম কাপড় গায়ে চাপিয়ে চলাচল করতে শুরু করেছেন।