বিশেষ প্রতিনিধি: নীলফামারীতে যমুনেশ্বরী নদীর জেগে উঠা চরের বালু অসাধু ব্যক্তিরা প্রতিদিন শত শত ট্রাক্টরে বালু পাচার করায় বাহাগিলি বেইলী ব্রীজ ও তারাগঞ্জ-কিশোরগঞ্জ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়াও নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে বিস্তৃর্ণ জনপদ হারিয়ে যাওয়ার আশংকা করছে এলাকাবাসী।
বাহাগিলি বেইলী ব্রীজের পশ্চিম পাশে বাহাগিলি ইউনিয়ন ও পুর্ব এলাকা চাদঁখানা ইউনিয়নে অবস্থিত। বর্তমান পুর্ব এলাকার জেগে উঠা চর থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাকটর ভর্তি বালু বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। এখান থেকে অনতিদুরে রয়েছে বালু পাচারকারী চক্রের টোল আদায়ের ফাঁড়ি। পাশে অবস্থিত সন্নাসিপাড়ার মিন্টু গিরের ছেলে যোগলগীর (৩৭) ও শাহপাড়া গ্রামের মামুন (৩০) এর নেতৃত্বে টোল আদায় ফ্রি-স্টাইলে করা হচ্ছে। ট্রাকটরগুলোর পরিবহন ক্ষমতার উপর ১শ’ থেকে ২শ’ টাকা নেয় ওই অসাধুরা। দীর্ঘদিন থেকে চলছে বালু বিক্রি চক্রের মহোৎসব। দু’বছর আগে কিশোরগঞ্জ ইউএনওর দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভুমি) কমল কুমার ঘোষ বালু, পানি, মাটি উত্তোলন ২০১০আইন অনুযায়ী এক ভ্রাম্যমান আদালতে এক ট্রাকটর ড্রাইভারের ৫০হাজার টাকা জরিমানা করে। কিছুদিন অপেক্ষার পর ফের সরব হয়ে উঠে এ চক্রটি। কিশোরগঞ্জ-তারাগঞ্জ সড়কে যাতায়াত করলেই চোখে পরে সার্বক্ষনিক বালু পাচারের দৃশ্য। কোন প্রকার বাঁধা ও নিষেধ ছাড়াই চক্রটির পাচার কর্মকান্ড যেন নৈমত্তিক রুটিন হয়ে দাড়িয়েছে।
এ ব্যাপারে চাঁদখানা ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বাহাগিলী ঘাটে এলাহী কারবার হয়। চক্রটি লাখ লাখ টাকা কামাই করে, অনেক টাকা বিলায়। শুনেছি আমার কিছু কর্মী জড়িত, তবে আমার কোন সম্পৃক্ততা নাই।
এদিকে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস শহীদ জানান, বাহাগিলী বেইলী ব্রীজের পশ্চিম পাশে আমাদের এ্যকুইডাক অবস্থিত। নদীর বালু পাচার অবশ্যই উদ্বেগজনক। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন সহ সব ধরণের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের উদ্দোগে কয়েকবার বালু পাচার বন্ধ করা হলেও ফের চালু হয় ওই কর্মকান্ড। প্রশাসনই পারে এটি বন্ধ করতে। এদিকে সন্নাসীপাড়ার মৃত বিষাদুগিরের ছেলে সলেয়াগীর (৭০) তার চরে থাকা ১একর ৬০শতক ফসলি জমি উদ্ধারের জন্য গত ১০ডিসেম্বর ২০১৫তারিখে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিদ্দিকুর রহমানকে লিখিত অভিযোগ দেন। এই অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বালু পাচারকারী চক্রটি জোর করে তার চরে থাকা ফসল উপযোগী ১একর ৬০ শতক জমির বালু পাচার করছে। তিনি বাঁধা দেয়ায় সংঘবদ্ধ চক্রটি তাকে ধাক্কা ধাক্কি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিদ্দিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বালু পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।