• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

মা-বোনদের বলে যাই, ইসির জন্য দয়া চাই

রেজোয়ান।। রেজোয়ান সিদ্দিকী ।। ‘প্রিয় এলাকাবাসী, প্রিয় এলাকাবাসী, আগামী ৩০ ডিসেম্বর রোজ বুধবার সারা দেশে ২৩৪টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন পরিচালনা করার কথা নির্বাচন কমিশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের। এই প্রতিষ্ঠানে কতকগুলো লোক আছে, যাদের স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করার কথা ছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এই যে, সংবিধান তাদের যে স্বাধীনতা দিয়েছে সে স্বাধীনতা ভোগ বা প্রয়োগ করার ক্ষমতা তাদের নেই। তারা কখনো কেউ স্বাধীনভাবে কাজ করেননি। আর তাই তারা মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে আছেন। ওপরের নির্দেশ ছাড়া তারা কোনো কিছুই করার ক্ষমতা রাখেন না। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তারা সরকারের মন্ত্রী-এমপির নির্দেশের অপেক্ষায় থাকেন। একে কিছুতেই দোষের বলা যায় না। আর এই অবস্থা যাতে না হয়, সে জন্য আগে কমিশনে নিয়োগ দেয়া হতো প্রধানত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের। অতএব বাংলাদেশের ভোট এলাকার মা-বোনেরা, বাপ-চাচারা, ভাই-বেরাদর, আপনারা নিজ গুণে এই সরকার-অনুগত, প্রতিবন্ধী ও জন্মান্ধ নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখুন। দয়া পরম ধর্ম। আপনারা সবাই তাই নির্বাচন কমিশনকে দয়া করুন। দয়া করুন।’
এ দেশে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় কখনো ভোট হয়নি, এমন দাবি করা সঙ্গত হবে না। আর আমাদের কৈশোরে আমরাও বড়দের সঙ্গে দল বেঁধে সন্ধ্যার দিকে বের হয়েছি আর সুর করে ভোট চেয়েছি, ‘মা-বোনেরা বলে যাই, আনারসে ভোট চাই।’ তখন নির্বাচন কমিশন কাকে বলে সে সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা ছিল না। নির্বাচনের সময় কারা যেন চা-পানের দোকান ফ্রি করে দিত। আমরাও বিনা পয়সায় চা খেতাম। দু’ চার জায়গায় মারামারি হতো না এমন নয়। তবে যারা মারামারি করত, তাদের জেতার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসত। লোকে পছন্দ করত না। বলত, এখনই এই, নির্বাচিত হলে তো জনগণকে মারতে শুরু করবে। ফলে মারামারিবাজরা আউট হয়ে যেত। আর কারা যেন ছিল, সামান্য মারামারি হলেই নির্বাচন বন্ধ করে দিত। পরে জেনেছি, যারা বন্ধ করে দিত, তারাই ছিল নির্বাচন কমিশন। ফলে গোলমালবাজরা এই কমিশনকে যমের মতো ভয় করত।
সাবেক সচিব অর্থাৎ সরকারের নির্দেশ পালনকারী অনুগত কর্মকর্তা কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে, এ পর্যন্ত যত নির্বাচন তাদের অধীনে হয়েছে, তার সব ক’টিই হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ। প্রতিটি নির্বাচনের আগে কমিশন প্রার্থী ও প্রচারকারীদের জন্য কিছু আচরণবিধি ঘোষণা করে থাকে। এই আচরণবিধি কেউ লঙ্ঘন করলে তার জন্য শাস্তির বিধানও করা হয়। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের নিজেদের ঘোষিত আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য এ পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করতে পারেনি। দু-একটি ক্ষেত্রে তারা নিরীহ দু-একজনকে সামান্য কিছু জরিমানা করে দেখাতে চেয়েছে যে, তারা খুব সক্রিয় আছে। কাউকে কোনো রকম ছাড় দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু বিপত্তি বেধেছে বড় বড় আইন লঙ্ঘনকারীকে নিয়ে। প্রায় প্রতিদিনের সংবাদপত্রে খবর ছাপা হচ্ছে, সরকারের মন্ত্রী এমপিরাই সবচেয়ে বেশি করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার সাহস বা ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই। কার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিয়ে আবার চাকরিটা হারিয়ে বসেন। যদিও একবার নিয়োজিত হলে মেয়াদ পর্যন্ত তাদের ‘চাকরি’ সাংবিধানিকভাবেই কেউ খেতে পারবে না। তা জানা সত্ত্বেও এরা আসলে দায়িত্ব পালন করছেন না। নিতান্তই যেন ছা-পোষা কেরানির মতো চাকরি করে যাচ্ছেন। ফলে নির্বাচন কমিশনার হওয়ার সব যোগ্যতা তারা হারিয়েছেন।
এই নির্বাচন কমিশন যে কতটা অসহায় তা তাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়েই প্রমাণিত। গত ২০ ডিসেম্বর আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ নির্বাচনী অনাচার বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে বিধি ভঙ্গের অব্যাহত অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনর মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বিষয়টি দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। আবার নির্বাচনী বিধিবিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশন যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তার বেশির ভাগ সরকারি দলের পক্ষে যাচ্ছে। সর্বশেষ মেয়র ও কাউন্সিলর শতাধিক পদের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এই প্রার্থীদের বেশির ভাগ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’।
কমিশন মাঠ পর্যায়ে যে তদন্ত চালাচ্ছে, তার ফলও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে যাচ্ছে। কমিশন গত ২০.১২.১৫ তারিখ পর্যন্ত ১৯টি ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি চিঠির জবাব পাওয়া গেছে। তাতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতিটি অভিযোগ অসার বলে প্রতিবেদন দিয়েছেন। কেবল সাতক্ষীরার কলারোয়ার ক্ষেত্রে কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। অনিয়ম প্রশ্রয় দেয়ায় এই কর্মকর্তাকে শাস্তি দিলেও অনিয়মের সুবিধাভোগী সরকারদলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
নির্বাচন পরিচালনার সর্বময় ক্ষমতা ইসির হাতে থাকলেও কমিশন তা প্রয়োগ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারি সুবিধাভোগীদের আচরণবিধি ভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন তাদের সহজাত ক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে না। এ অবস্থায় গত ২০ ডিসেম্বর কমিশন সচিবালয়ে কমিশনার শাহনেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘যারা সরকারে আছেন, তারা অন্যদের চেয়ে বেশি দায়িত্বশীল আচরণ করবেন, এটা আমাদের প্রত্যাশা। যারা সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ, তারা যেন কমিশনকে সহযোগিতা করেন। কারণ এই নির্বাচনের সঙ্গে সরকারের ভাবমর্যাদার প্রশ্ন জড়িত। তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, আপনারা এমন কোনো আচরণ করবেন না, যাতে কমিশনকে অপ্রস্তুত হয়ে পড়তে হয়। তারা যেন কমিশনকে এমন কোনো ব্যবস্থা নিতে বাধ্য না করেন, যাতে তারাও অপ্রস্তুত হন। সরকার প্রধানের প্রতি অনুরোধ থাকবে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি তিনি যেন দেখেন।’ এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমদ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার দায়িত্ব কমিশনের। একজন কমিশনার এ ধরনের কথা বললে ধরে নিতে হয় যে, সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা আচরণবিধি মানছেন না। কমিশনও তাদের সামাল দিতে পারছে না। কিন্তু সামাল দেয়ার জন্য যথেষ্ট আইন আছে। সেটা তারা প্রয়োগ করছেন না কেন?
কমিশন সচিবালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২৩৪টি পৌরসভায় বাছাইয়ে মেয়র পদে ১৫৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। তাদের মধ্যে বিএনপির ১৬ জন প্রার্থী আছেন। তাাচেয়ে কয়েক গুণ বেশি আছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। বাকিরা অন্যান্য দলের। অভিযোগ আছে, সরকারি দলের প্রার্থীদের চাপে ফেনী, চাঁদপুর, সিলেট, শরীয়তপুর, কুমিল্লাসহ কয়েকটি জেলায় প্রতিপক্ষের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া কাউন্সিলর পদে ৫৮১ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৫৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। কমিশনার সচিবালয় থেকে জানা গেছে, মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া দেড় শতাধিক প্রার্থী হাইকোর্টে গিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এদের মধ্যে সাত-আটজন মেয়র প্রার্থীও আছেন। ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে এখন কমিশন হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে কমিশনার শাহনেওয়াজ মনে করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা বা আপিল কর্তৃপক্ষ যৌক্তিক কারণেই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল। গত ২০ ডিসেম্বর বৈঠকে দু’জন কমিশনার আপিল না করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তবে অপর তিনজন আপিল করার পক্ষে মত দেন। কবে এ আপিলের নিষ্পত্তি হবে, কবে ব্যালট পেপার ছাপা হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এ দিকে এসব ক্ষেত্রে কমিশনের সব সিদ্ধান্ত সরকার দলের পক্ষেই গেছে। সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কমিশন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী আমিনুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার ক্ষেত্রে অনিয়ম করেছেন। আমিনুল উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস-চেয়ারম্যান। মেয়র নির্বাচনে দাঁড়াতে হলে তাকে আগে ওই উপজেলার পদ ত্যাগ করতে হতো। কিন্তু আমিনুল তা করেননি। তা সত্ত্বেও তার প্রার্থিতা বহাল রাখেন রিটার্নিং অফিসার। এ জন্য তিনি সাময়িক বরখাস্ত। কিন্তু আমিনুলের প্রার্থিতা বহাল আছে। কী করে বহাল থাকল এ সম্পর্কে কমিশনার শাহনেওয়াজ বলেন, কেউ অভিযোগ করেননি। সংক্ষুব্ধ কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হতো। নির্বাচন কমিশন যেন থানার নিঃস্পৃহ ওসি। চোখের সামনে খুন হলো, কেউ অভিযোগ করল না বলে তা আমলে নেয়া হলো না।
নির্বাচন কমিশনের বিপদ এখানেই। কিভাবে সব বিষয়কে সরকারের অনুকূলে রাখা যায়, সেজন্য তাদের প্রাণান্ত চেষ্টার অভাব নেই। সে নির্বাচন কমিশনই হোক, আর রিটার্নিং কর্মকর্তাই হোক। যেমন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, হুইপ আতিউর রহমান, এনামুল হক এমপি, হাসিবুর রহমান এমপি প্রমুখ। তারা যে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন, তার সুস্পষ্ট প্রমাণ কমিশনের কাছে আছে। তার বিবরণও পত্রপত্রিকায় ছাপ হয়েছে, কিন্তু তার বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।
আবার নির্বাচন কমিশনের এমন বেহাল দশায় যে, তাকে দু’পয়সা দাম দিচ্ছে না সরকারের আইনশৃঙ্খলা বা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা। রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ মানছেন না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা। মারধরের মতো কোনো ঘটনায়ও কেউ সাড়া দেয় না। আর অভিযোগ যদি সরকার দলের বিরুদ্ধে হয়, তাহলে চোখে ঠুলি পরে, কানে তুলা দিয়ে বসে থাকেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ আছে, থানার ওসিরা নির্বাচনের ক্ষেত্রে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। নির্বাচনের মূল দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নির্বাচনী অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এসব বিষয়ে জানতে চেয়ে এডিসি ও ইউএনওদের চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু অর্ধশত এডিসি ইউএনও কমিশনের নোটিশের জবাবই দেননি। ওসি-ডিসিরাও কমিশনের কোনো নির্দেশ মানছেন না। আর এমপির প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ওসিরা। ফলে রকিব কমিশনের অধীনে এই নির্বাচন একটি মহা-প্রহসনে পরিণত হতে যাচ্ছে।
নির্বাচন নিয়ে পুলিশের দাবি ছিল, কোনো সাংবাদিককে তারা বুথের ভেতরে ঠুকতে দেবেন না। নির্বাচন কমিশন লোক দেখানোর জন্য পুলিশের এ দাবি নাকচ করে দিয়েছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশন পুলিশের নির্দেশিত পথেই অগ্রসর হচ্ছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সাংবাদিকদের পাস দেয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের নির্দেশিত পথেই অগ্রসর হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সিটি মেয়র নির্বাচনেও একই অবস্থা হয়েছিল। সাংবাদিকদের ও ভোটারদের প্রবেশ করতে না দিয়ে ভেতরে নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আওয়ামী ক্যাডাররা ব্যাপকভাবে ব্যালটে সিল মেরেছে। ফলে সকাল ১০টার মধ্যে ভোটার নেই, বাক্স ভর্তি। এ রকম একগুচ্ছ নখদন্তহীন ও মেরুদণ্ডহীন কিলবিল করা কমিশনকে দয়া করা ছাড়া আর কীই বা করার আছে!
লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক
উৎসঃ   নয়াদিগন্ত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ