• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

‘এ নির্বাচন মানুষকে আশাবাদী করেছে’

আমানসিসি ডেস্ক: এখন হয়তো সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের নিয়ম চালু করেছে। কিন্তু আগেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন তথা ইউপি, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতেই হতো। আগে মানুষ দলীয় মার্কা পেত না। এখন সেটা ওপেন পাচ্ছে। এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরের সিনিয়র এডিটর সাংবাদিক আমানউল্লাহ কবির। মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দেশ টিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর‌্যালোচনাভিত্তিক টক শো ‘সোজা কথা’ অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আমানউল্লাহ কবির আরো বলেন, ‘আগে আমরা যখন নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছি তখনো দেখছি নির্বাচন কমিশন রেজাল্ট ঘোষণা করত এভাবে—বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী পেয়েছেন এত ভোট, আর আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী পেয়েছেন এত ভোট। এভাবে প্রকাশ্যে কিন্তু দলীয় পরিচয়ে ভোট চাওয়া ও ভোটের আমেজ ছিল। এখনো সেটা আছে, তবে এখন দল থেকে সরাসরি ভোট গণনা পর্যন্ত নেতাকর্মীরা সচেষ্ট থাকছে।’

সাংবাদিক ও দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খোন্দকার মনীরুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন বেসরকারি সংস্থা আইইডির নির্বাহী পরিচালক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক নোমান খান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাদেই নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কতটা শান্তিপ্রিয় হবে?

জবাবে নোমান খান বলেন, সারা দেশেই এখন উৎসবের আমেজ। শুরু হয়েছে ভোটের লড়াই। প্রতীক বরাদ্দের পরই প্রার্থীরা ভোটারের মন জয়ের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন। এবার ভোট হয়ে যাওয়ার পর মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচনী ফলাফল পাওয়ার অপেক্ষায় থাকবেন। কারণ এত দিন তাঁরা যে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন তারই একটি ফলাফল তাঁরা পেতে যাচ্ছেন। ভোটের ফল ঘোষণার পর তাঁরা তাঁদের কাজের মূল্যায়ন করতে পারবেন।

নোমান খান আরো বলেন, সত্যিকার অর্থেই উৎসবের আমেজের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে ভোটযুদ্ধের মূল পর্ব। এটি দেশপ্রেমিক সব মানুষকেই আশাবাদী করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী গণতন্ত্রমনা মানুষজন নির্বাচনের দিন ব্যালট-রায় প্রদান করে যোগ্য প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার চেষ্টা করবেন। আর জয়ী প্রার্থীরা স্থানীয় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তব রূপায়ণ ও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।

আলোচনার এ পর‌্যায়ে সাংবাদিক আমানউল্লাহ কবির বলেন, সংগত কারণে স্থানীয় পর‌্যায়ের এই নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু না হলে যোগ্য প্রার্থীরা জয়ী হওয়ার সুযোগ পান না। পরিণতিতে জনপ্রত্যাশাও ভূলুণ্ঠিত হয়। কোনো দেশপ্রেমিক মানুষ এমন নেতিবাচক চিত্র কামনা করতে পারেন না। তাই নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সব ধরনের আইনগত সুযোগ অবারিত করে একটি বিতর্কহীন অবাধ পৌর নির্বাচন সম্পন্ন করবে নির্বাচন কমিশন—এমনটি প্রত্যাশা বরাবরই দেশবাসীর ছিল। জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণ নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

আমানউল্লাহ কবির আরো বলেন, এবারের পৌর নির্বাচন অন্যান্যবারের চেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কারণ এবারই প্রথম দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচন। এবারই প্রথম স্থানীয় নির্বাচনে নৌকা ও ধানের শীষ সরাসরি ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছে। এতে দলীয় প্রতীকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় পর‌্যায়ের ভোট হলেও এ নির্বাচন নিয়ে  দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপির নেতাকর্মীরা আবার রাজপথে নেমেছে। তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষে জনগণের কাছে ভোটের জন্য ধরনা দিয়েছে। নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে তারা যা যা করেছে এবং করবে তার ফিরিস্তি প্রকাশ করেছে। তাদের আচরণেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রধান দুই প্রতিপক্ষের সহাবস্থানে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত সারা দেশে কোথাও বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ আসেনি। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার কারণে দেশের ২৩৪ পৌরসভায় বইছে জাতীয় নির্বাচনের আমেজ। এ যেন গণতন্ত্রের অন্য এক বাংলাদেশ।

উৎস: কালেরকন্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ