আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এলিসা এলিয়ান। স্বর্ণকেশী এই রাশিয়ান সুন্দরী একজন সঙ্গীত শিল্পী। রাশিয়ার নিমিরভিচ বাদ্যযন্ত্র থিয়েটারের একক গান পরিবেশন করেন।
পড়াশোনা পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে হলেও সঙ্গীতের প্রতি আবেগ, ভালোবাসার কারণে তিনি মূলত সঙ্গীতকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এলিসা দুটি বিবাহ করেছেন। দুটোই প্রেমের বিয়ে।
তার প্রথম স্বামী ছিলেন একজন রাশিয়ান। এলিসার সঙ্গীতজীবন, সংস্কৃতি চর্চা, নিজেকে বাহিরে উপস্থাপন এসব মেনে নিতে পারেননি তার প্রথম স্বামী। তিনি মনে করতেন পদার্থ বিজ্ঞানকেই পেশা হিসাবে বেছে নিলে ভালো করতেন এলিসা।
স্বামীর সাথে এ ব্যাপারে বনিবনা না হওয়ায় এলিসার ১২ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে মাত্র ৩২ বছর বয়সেই! ঐসময় এলিসা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সাথে বিপর্যয়ের মুখে পরে তার সঙ্গীত জ়ীবনও। তিনি হারিয়ে ফেলতে থাকেন তার সুন্দর কণ্ঠ-যা তাকে ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। তখন নিজেকে খুবই অসহায় অনুভব করেন।
অন্যান্য বন্ধুদের পরামর্শে তিনি সিদ্ধান্ত নেন দূরে কোথাও থেকে ঘুরে আসার। সেই মোতাবেক তিনি ভ্রমণের জন্য পাড়ি জমান তুরস্কে। বিমানবন্দরে নেমেই দেখা হয় গানয় আকসেলি নামের এক অভিজ্ঞ টুরিস্ট গাইডের-যিনি কিনা একটি টুরিস্ট কোম্পানির মালিক।
মনের বিষণ্নতা দূর করতে দু’সপ্তাহ সময়ের সফরে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে বেড়ান এলিসা। সাথে সঙ্গ দেন আকসেলি। আকসেলির আন্তরিকতা, বিনয়, যত্ন, আতিথিয়েতা ও দায়িত্বনুভুতি খুবই মনে ধরে এই রুশ সুন্দরীর।
সিদ্ধান্ত নেন রাশিয়ায় ফিরে যাওয়ার আগেই আকসেলিকে বিয়ে করার।
এভাবেই এলিসা তার খারাপ সময়কে পেছনে ফেলে দ্বিতীয়বার প্রেমে পড়া ও বিয়ের কাহিনী বর্ণনা করেন। আর তুর্কি পুরুষ গানয় আকসেলির ভাষায় ‘এলিসা এমন একজন নারী যার মত কাউকে জ়ীবনসঙ্গী হিসেবে পাবার স্বপ্ন আমি দেখতাম। তার মাঝে আমি সব কিছুই খুঁজে পেয়েছি। সে একই সাথে একজন রুশ সন্দরী, মেধাবী শিল্পী, একজন বুদ্ধিমতি নারী যাকে আমি একদশক ধরে খেয়াল রাখছি।’
উল্লেখ্য এই তুর্কি রাশিয়ান দম্পতির ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে, যাদের একজন ছেলে ও একজন মেয়ে। তারা বর্তমানে খুবই সুখী দাম্পত্য জ়ীবনযাপন করছেন।
ফাউন্ডেশন ফর পলিটিকাল ইকোনোমিক অ্যান্ড সোস্যাল রিসার্চের প্রফেসর ভয়গুর ইমানবেলি বলেন, ‘এরকম প্রায় ৩ লাখ দম্পতি রয়েছেন। এদের বেশিরভাগই হচ্ছে রুশ নারী-যারা নিজেদের দেশ ছেড়ে তুরস্কে নাগরিকত্ব নিয়ে বসবাস করছেন।’
গত ২৪ নভেম্বর সিরিয়ায় রাশিয়ার বিমান ভুপাতিত করার জেরে তুরস্ক ও রাশিয়ার মাঝে যে বিবাদ শুরু হয় তার আগে প্রায় ৪০ লক্ষ রুশ নাগরিক ভ্রমণের জন্য তুরস্ক সফর করেছেন। রাশিয়া এ ঘটনার পরে তুরস্কের ওপর যে অবরোধ আরোপ করেছে তার মধ্যে রুশ নাগরিকদের জন্য তুরস্ক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।
গত বছর রুশ ভ্রমণকারীদের জন্য পছন্দের শীর্ষ স্থান ছিল তুরস্ক। আর এসব রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চিন্তার মধ্যে পড়েছেন এসব ভ্রমণকারী, বিশেষ করে রুশ নারীরা। যাদের অনেকেই আবার তুরস্কে ভ্রমণ করতে চান নিজের ভবিষ্যত জীবনসঙ্গী খুঁজতে। কারণ স্বামী হিসেবে রুশ রমনীদের প্রথম পছন্দই হচ্ছে তুর্কি পুরুষেরা!
সূত্র: দি ডেইলি বিস্ট