ঢাকা: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে মেট্রোরেলের নকশা করা হয়েছে। আগামী মার্চ মাসেই মেট্রোরেলের মূল কাজ শুরু হবে। এখন মেট্রোরেলের পথ পরিবর্তনের সুযোগ নেই।’
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত পরিবার দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ সব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় সংসদ ভবন, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর স্থানে মেট্রোরেল সাউন্ড প্রুফ করা আছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মেট্রোরেল বাধা সৃষ্টি করবে কেন? আমি অনুরোধ করবো এ নিয়ে আর বাদানুবাদ না করার।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় সড়ক নিরাপত্তায় ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটিতে এবারই প্রথম যারা সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করে তাদেরও রাখা হয়েছে। ইলিয়াস কাঞ্চন, সৈয়দ আবুল মকসুদসহ সাংবাদিক প্রতিনিধিরাও আছেন। এই কমিটি সরকারকে পরামর্শ দেবে, সহযোগিতা করবে। এটা দায়সারা কমিটি নয়, প্রতি সপ্তাহে তারা বৈঠক করছেন।’
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘চালকদের বেপরোয়া মন-মানসিকতাই সড়ক দুর্ঘটনার কারণ। সচেতনতা বড় বেশি প্রয়োজন। আমরা চালকদের বলেছি, কুয়াশায় ৩০/৪০ কিলোমিটার এর বেশি গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। অতিরিক্ত কুয়াশা থাকলে গাড়ি বন্ধ রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ব্ল্যাক স্পটগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। কাজ চলছে। আমরা আশা করছি ব্ল্যাক স্পটগুলোও ঠিক হয়ে যাবে। ঢাকা-আরিচা রোড সেফটির মডেল। সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের চেয়ে অন্য দেশে অনেক বেশি। মালদ্বীপ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় সবার বেশি। সেই তুলনায় আমাদের অনেক কম।’
মন্ত্রী বলেন, ‘যানজট নিরসনে দুই সিটির উদ্যোগের সঙ্গে আমিও কাজ করছি। ফুটপাথ দখল মুক্ত করতে হবে। আমরা আশা করছি, যানজট নিরসন করে নগরবাসীকে একটু হলেও স্বস্তি দেওয়া যাবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘মন্দির দখলকারী, মন্দির ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। আপনারা কেস টু কেস আমাদের কাছে বলেন, আমরা ব্যবস্থা নেবো। চলে যাওয়ার কথা কেন বলেন? এই দেশ আপনার। দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শেখ হাসিনা সরকার।’
‘পরিবার দিবস’ উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। মহানগর পূজা কমিটির সভাপতি জে এল ভৌমিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম, সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত, সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য সুজিত রায় নন্দী, আওয়ামী লীগ নেতা মুকুল বোস প্রমুখ।