হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা(নীলফামারী) : মাত্র ৪৮০ টাকার জন্য বন্ধুরা হত্যা করেছে সাহেব উদ্দিন ঘুটু (১৪) নামের এক সহপাঠিকে। ঘটনাটি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলনা কালীগঞ্জ এলাকায়। নিহত ঘুটু ওই এলাকার বাদশাহ মামুদের পুত্র। সোমবার সকালে স্থানীয়রা বাঁশঝাড়ে শিশুটি লাশ দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। হত্যার সাথে জড়িত ৩ সহপাঠিকে আটক করেছে থানা পুলিশ। আটকৃতরা হলেন, আব্দুর রহমান বাবুর ছেলে মনোয়ার হোসেনর্ (১৫), হযরত আলীর ছেলে সালা উদ্দিন (১৫), আইয়ুব খানে ছেলে টিটু (১১) । নিহত শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মারুফ হোসেনকে এ হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে চাঞ্চলকর তথ্য দিয়েছে আটককৃতরা। তাদের দেওয়া স্বীকার উক্তিতে জানা যায়, রবিবার রাত প্রায় ৮ টায় বাবার কালীগঞ্জ বঙ্গবন্ধুহাটের ঝালমুড়ির দোকান থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে নিহত সাহেব উদ্দিন ঘুটুর সাথে ওৎ পেতে থাকা মনোয়ার হোসেন ও সালাউদ্দিন যোগ দেয়। ঘুটুর কাছে ৪৮০ টাকা আছে মনে করে তাকে কৌশলে বিড়ি খাওয়ার কথা বলে পার্শ্ববর্তী ভুট্টাখেতে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পথে ঘুটুকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় মনোয়ার হোসেন। এ সময় আর এক সহপাঠি সালাউদ্দিন তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে গলা চেপে ধরে এবং টাকা আছে কিনা জানতে চায়। ঘুটুর কাছে টাকা না পেয়ে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে পাশ্ববর্তী বাঁশঝাড়ে গলায় মফলার পেচিয়ে বাঁশের সাথে বেধে রেখে চলে যায়। হত্যা কান্ডের এক পর্যায়ে সহপাঠি ওই এলাকার আইয়ুব খানের ছেলে টিটু বাড়ি থেকে বাজার আসার পথে তাদেরকে দেখতে পায় এবং সেও এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে জলঢাকা থানা তদন্ত কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন শেখ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্দেহ ভাজন ওই সহপাঠি ৩ জনকে তাদের বাড়ী থেকে থানায় নিয়ে আসি। পরে নীলফামারী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে। তিনি আরও জানান, শিশুটির পিতা বাদশা মামুদ বাদী হয়ে জলঢাকা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। আটককৃতদের জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।