মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর : দিনাজপুরে “শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার কারণ ও রোধকল্পে”করণীয় শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট্র, শিক্ষা মন্ত্রনালয় ঢাকা’র উদ্যোগে দিনাজপুর জেলা শিক্ষা অফিস এই কর্মশালার আয়োজন করে।
শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারী) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট্র’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. নুরুল আমিন।
জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রাব্বি ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার মো. এনায়েত হোসেন।
কর্মশালার প্রথম পর্বে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার কারণ চিহ্নিত ও এর প্রতিকারের বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে গ্রুপ ভিত্তিক আলোচনা করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা ৬টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ঝরে পড়ার বিভিন্ন কারণ চিহিœত করেন। জুমা সমাপনী পর্বে ৬টি গ্রুপের চিহ্নিত মতামতগুলো সবার মাসনে উপস্থাপন করা হয়।
কর্মশালার প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল আমিন বলেন, আমরা পৃথিবীকে যেখানে পেয়েছি তার চেয়ে আরো ভাল অবস্থানে রেখে যেতে চাই। তিনি শিক্ষা বিস্তারে ও শিক্ষার্থী ঝরে পড়ারোধে প্রধানমন্ত্রীর নানা দিক তুলে ধরে বলেন, অর্থের অভাবে শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত দরিদ্র, মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের স্কুল, কলেজ, ও মাদরাসায় অধ্যয়রত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট্র গঠন করা হয়। এই শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট্র উপবৃত্তির মাধ্যমে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক/সমমান পর্যন্ত দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃস্টি করেছে। তিনি বলেন, বিগত ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় উপবৃত্তি প্রদান ছাত্রীদের পাশাপাশি ছাত্রদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে স্নাতক(পাস) ও সমমান পর্যায়ে ১৪ হাজার ৬৭৭ ছাত্র ও ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯১ কোটি ৬৫ লাখ ৩ হাজার ৯৮০ টাকা উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৬৮৮ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা উপবৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে। তিনি ১৯৭২ হতে ২০১৫-২০১৬ সালের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ১৯৭২ সালে যেখানে স্বাক্ষরতার হার ছিল ১৬.৮ ভাগ বর্তমানে তা দাড়িয়েছে ৭০ ভাগে। বর্তমানে দেশে ৩৫ লাখ নারী শ্রমিক পোষাক কারখানায় কাজ করে। মানুষের মাথা পিছু আয় বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সব সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগাতে তিনি সবার প্রতি আহবান জানান। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ারোধে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
কর্মশলায় জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম বলেন, শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার অনেক কারণের মধ্যে মূল কারণ অর্থ। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক দারিদ্র দুর করা যায়, কিন্তু নৈতিক দারিদ্র দুর করা কঠিন। নৈতিক দারিদ্র হতে বের হয়ে আসার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। অন্যান্য বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আগে ঝরে পড়ার মূল কারণ চিহিœত করতে হবে এবং শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষের প্রতি আগ্রহী হতে হবে। তবেই শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব হবে।
চিরিরবন্দ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মনজুরুল হক’র সঞ্চালনায় কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান, বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল খায়রুম, বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মো. আনোয়ার হোসেন, পার্বতীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শমসের আলী মন্ডল, সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার কন্দর্প নারায়ণ রায়, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল, দৈনিক উত্তর বাংলার বার্তা সম্পাদক মো. শাহাদৎ হোসেন শাহ, দিনাজপুর নুরজাহান কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওঃ আ স ম আব্দুল মুঈদ, বিরল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মমিনুল হক, হাকিমপুরের গাউসপাগা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ, বোচাগঞ্জের বকুলতলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, ঘোড়াঘাট কেসি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফুর রহমান সরকার, ঈদগাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুর রহমান, দৈনিক মানববার্তার দিনাজপুর মাহবুবুল হক খান প্রমূখ। কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এনজিও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সব শেষে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল আমিন সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।