• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ঠাকুরগাঁও শহর সিসি ক্যামেরার আওতায় আসছে

সিসিসিসি ডেস্ক : বাংলাদেশে সর্বপ্রথম জেলা শহর হিসাবে ঠাকুরগাঁও সদর ১০০% ওয়্যারলেস সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রনে আসছে। ঠাকুরগাঁও সদরের সম্মানিত নাগরিকদের আরো উন্নততর পুলিশি সেবা প্রদানের পাশাপাশি অসংখ্য আধুনিক সার্ভিস প্রদানের জন্য পরিস্কার দৃশ্য, সুস্পষ্ট নাইট ভিশন ও সুবিশাল মেমরি স্টোরেজ সহ অন্ততঃ ৫৬টি আই পি ক্যামেরার সমন্বয়ে এই তারবিহীন নেটওয়ার্ক শুভ উদ্বোধনের দ্বারপ্রান্তে।

ঠাকুরগাঁও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এই উদ্যেগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ঠাকুরাঁওয়ের সুশীল সমাজের লোকজন।

শহরের চৌরাস্তার এক দোকানদার জানান, সম্প্রতি জুয়েলার্সের দোকানে বোমা ফাটিয়ে ডাকাতি করে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার সোনা লুট করে নিয়ে যায়। কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত ডাকাতদের ধরতে পারে নাই। শহর যদি সিসি ক্যামেরার আওতায় আসে তাহলে যেকোন ঘটনা সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়বে। পরর্বতী ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তাই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সাধুবাদ জানাই।

শিক্ষাবিদ মনতোষ কুমার দে জানান, সময় যত যাচ্ছে দেশ তথ্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমার মতে এই ঠাকুরগাঁও শহরই প্রথম সম্পূর্ন সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। এই কারণে যে কেউ অপরাধ মূলক কাজ করতে ভয় পাবে। যদিও অপরাধ মূলক কাজ সংগঠিত হয় পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ওই ব্যক্তিদের তাৎক্ষনিক আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবে। সরকার পুরো দেশেই যদি এই রকম যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করে। তাহলে দেশে সকল অপরাধ কমে আসবে বলে মনে করি।

শহরের ব্যবসায়ী সামশুল হক জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে যে পরিমান মোটর সাইকেল চুরি হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরাসরি কাউকে ধরতে পারেনি পুলিশ। যেহেতু শহর এখন সিসি ক্যামেরার আওতায় আসছে সেহেতু মোটর সাইকেল সহ সকল পরিমান চুরি কমে যাবে।

সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জানান, সম্প্রতি শহরে রাজনৈতিক সংঘাত বেড়ে গেছে। কোথাও মিছিল মিটিং হলেই সংর্ঘষ বাধে। কিন্তু পুলিশ তাদেরকে চিনতে না পারায় আইনের আওতায় আনতে পারে না। শহরে এখন সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রনে তাই সংর্ঘষসহ যেকোন অপরাধ মূলক কাজ কমে যাবে। ফলে শান্তিতে চলাফেরা করতে পারবে সাধারণ মানুষ।

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাত আহম্মেদ জানান, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে তরান্বিত করার জন্য সরকার গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা রাখি আগের থেকে সকল প্রকার অপরাধ কমে আসবে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ আসামীদের সহজেই শনাক্ত করতে পারবে। অপরাধী ও সাধারণ মানুষ যখন জানবে শহর সিসি ক্যামেরার আওতায় তখন এমনিতেই অনেক অপরাধ কমে আসবে বলে মনে করছি। আমার ১ হাজার সিসি ক্যামেরা লাগানোর মতো প্রস্তুতি নেওয়া আছে। ঠাকুরগাঁও শহরের কিছু মানুষ আমাকে এ কাজটিতে অনেক সহোযোগিতা করেছে তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই।

এছাড়াও বড় বড় সভা, সেমিনার, অনুষ্ঠান গুলোকে আমরা অস্থায়ী সিসি ক্যামেরার অওতায় নিয়ে আসতে সফল হয়েছি। এর মধ্যে ২১ ফেব্রুয়ারী শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া, গড়েয়া ইস্কন মন্দিরের অনুষ্ঠান অস্থায়ী সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে সাফল্যর সাথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। এখন থেকে যে সকল অনুষ্ঠান বা সভা সেমিনার ঝুকিপূর্ন মনে হবে সেগুলো আমরা সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসবো।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, সময়ের সাথে সাথেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে অনেকটা সফল। তাই দেশের আইন শৃঙ্খলা উন্নতির জন্য বিভিন্ন স্থানে ওয়ারলেস সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয় আসা হচ্ছে। ফলে আধুনিক শহর গঠনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে। গত দশ বছরে প্রযুক্তির দিক থেকে উত্তরের এই ঠাকুরগাঁও জেলা অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। তাই এই উদ্যোগের জন্য সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ