সিসি নিউজ: নীলফামারী সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় জনবলসংকট চরম আকার ধারণ করছে। এ ছাড়া এখানে প্রয়োজনীয় কাঁচামালেরও সংকট রয়েছে। এতে এ রেলওয়ে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
ওই কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ১৮৭০ সালে ১১০ দশমিক ২৯ একর জমির ওপর স্থাপন করা হয় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। এ কারখানায় ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। পর্যায়ক্রমে অবসর ও গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দিয়ে বর্তমানে এখানে শ্রমিক-কর্মচারী ১ হাজার ৪৬২-এ নেমে এসেছে। এ সীমিত সংখ্যক লোকবল দিয়ে এখানে মেরামত করা হচ্ছে ব্রডগেজ (বড়), মিটারগেজ (ছোট) লাইনের কোচ ও মালবাহী ওয়াগন। এক বছরের মধ্যে আরও শ্রমিক-কর্মচারী অবসরে গেলে কারখানার অনেক কার্যক্রম একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। এ ছাড়া এখানে ৫০ থেকে ১০০ বছরের পুরোনো অনেক যন্ত্রপাতি রয়েছে। তবে চীন থেকে আমদানি করা কিছু কিছু যন্ত্রপাতি বসানো হলেও স্থায়িত্ব নিয়ে খোদ শ্রমিকেরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, মালবাহী ও যাত্রীবাহী কোচের চাকায় বুশ বিয়ারিং ও বল বিয়ারিং সেটিং করা, রং দেওয়া ও ফিনিশিং দেওয়ার পর এসব আউটটার্ন দেওয়া হচ্ছে। বুশ বিয়ারিং লাগানো কয়েকজন কর্মচারী বলেন, আগামী ৩ থেকে ৭ মাসের মধ্যে অনেকেই অবসরে যাবেন। এখনো কোনো লোককে এ কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়নি। ফলে তাঁদের অবসরের পর চাকায় বুশ বিয়ারিং লাগানোর কাজটি একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। প্রায় প্রতিটি শপেই একই রকম অবস্থা বিরাজ করছে। কারখানায় রয়েছে এ ধরনের ২৮টি উপকারখানা (শপ)। এসব শপে তৈরি করা হয় রেল যন্ত্রাংশ সুইং হ্যাংগার, সেন্টার সিভোট, ড্রবার ব্রেক স্যাফট, ক্যারেজ ওয়াগন, ক্রেন, বয়লার ও লোকোমোটিভসহ রেলের এক হাজারের মতো বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। এ ছাড়া জনবলসংকটে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ খোলা টেন্ডারে ৫০ কোচ ও বগি নির্মাণের জন্য দুটো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিয়েছে। রেল কারখানার দক্ষ শ্রমিকেরা ছুটির পর মজুরির মাধ্যমে এসবের কাজ করছেন।
এদিকে ১৪০ বছরের পুরোনো ক্যারেজ শপ, বগি শপ ও ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন মেশিন শপে কয়েকটি কোচ মেরামত করা হচ্ছে। কোচ পারাপারে ব্যবহার করা হচ্ছে ৮৬ বছরের পুরোনো বৈদ্যুতিক ট্রাভার্সার। এটি অকেজো হয়ে আছে। কোনো রকমে চালানো হচ্ছে কারখানার কাজকর্ম। বছরে এ কারখানায় ৩১০টি কোচ ও ২৬৪টি ওয়াগন মেরামত করা সম্ভব। কিন্তু লোকবলসংকট, প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় উৎপাদন নেমে এসেছে অর্ধেকে।
এ ব্যাপারে রেলওয়ে কারখানার কার্য ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা বলেন, জরুরি ভিত্তিতে কারখানায় শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া না হলে যেকোনো সময় কারখানার কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়বে। কারখানার অব্যবহৃত ৪০ শতাংশ জমিতে নতুন ক্যারেজ কনস্ট্রাকশন তৈরি করে আন্তর্জাতিক মানের কারখানা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। চাহিদামতো অর্থ বরাদ্দ না মেলায় ও সময়মতো অর্থ ছাড় না করায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রথম আলো