শেরপুর: শেরপুরে চাঞ্চল্যকর শিশু রাহাত হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসি এবং একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে শেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত।
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাইদুর রহমান খান এ আদেশ দেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শিশু রাহাতের খালু আব্দুল লতিফ, আসলাম বাবু এবং রনি হোসেন। এদের নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৮ ধারায় এবং যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি ইমরান হোসেনকে ৮/৩০ ধারায় এ শাস্তি দেয়া হয়। তাছাড়া তাদের প্রত্যেককে ১০,০০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২ অগাস্ট শেরপুর শহরের প্রথম শ্রেণির ছাত্র রাহাতকে (৮) অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে তার খালু আব্দুল লতিফ ও তার তিন বন্ধু। এ ঘটনায় ৪ অগাস্ট তিনজনকে আসামি করে মামলা করে শিশুটির বাবা।
অপহরণের ছয় দিন পর নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক সংলগ্ন পাহাড় থেকে রাহাতের কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। লতিফসহ চার আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ২৯ নভেম্বর চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। এরপর গত ১৩ ডিসেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠায় বিচারিক আদালত।
আট কার্য দিবসে মোট ২৭ জনের সাক্ষ্য শোনার পর আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করলো। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলায় শুনানি করেন ট্রাইব্যুনালের পিপি কিবরিয়া বুলু, সাখাওয়াত উল্লাহ তারা, পঙ্কজ নন্দী। আসামিপক্ষে ছিলেন হাই কোর্টের আইনজীবী আব্দুছ সোবাহান তরফদার, নারায়ণ চন্দ্র হোড় ও আব্দুর রউফ মিয়া।