• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

এসএসসি’র ব্যবহারিক পরীক্ষায় টাকার বিনিময়ে নম্বর!

টাকাসিসি ডেস্ক: মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট ব্যবহারিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে।  শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করে, টাকা না দিলে পরীক্ষায় পাস নম্বর মিলবে না বলেও হুমকি দিয়েছেন কোনো কোনো স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য আদায়কৃত এ টাকার জন্য কোনো রশিদও দেয়া হচ্ছে না। এ ফি আদায়ের হার স্কুলভেদে বিভিন্ন রকমের। পুরো বিষয়টি ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও স্কুল-কলেজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি সংস্থা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং শিক্ষা বোর্ডগুলো কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এদিকে, দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বছিরবানিয়া স্কুল এন্ড কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র শাকিল হোসেন টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। শিক্ষক শরিফুল ইসলামের নির্দেশে গত বৃহস্পতবিার ওই জ্ঞানাঙ্কুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে ওই শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হন।

জানা গেছে,  ৯ মার্চ বুধবার থেকে চলমান ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। সব পরীক্ষার্থীর জন্যই কম্পিউটার শিক্ষা বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। শুধু বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদেরই নয়, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। মানবিক শাখায় কৃষি শিক্ষা, কম্পিউটার ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি (ছাত্রীদের জন্য) এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় কম্পিউটার বিষয়ে ব্যবহারিক অংশ নিতে হবে।  বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিত বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এসব বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে আগামী ১৪ মার্চ পর্যন্ত। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এই সময়ের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল, মতিঝিল মডেল, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, মতিঝিল সরকারি বালক, মতিঝিল সরকারি বালিকা, ধানমণ্ডি সরকারি বালক স্কুল, ওয়েস্টার্ন হাইস্কুল, পুরান ঢাকার কলেজিয়েট স্কুল, সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল, সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গালর্স, নারিন্দা সরকারি বালক, সরকারি মুসলিম হাই স্কুল, দনিয়া এ কে স্কুল, যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  পরীক্ষার্থীরা জানান, লিখিত পরীক্ষা চলাকালে হলে হলে এসে শিক্ষকরা ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য টাকা জমা দেয়ার জন্য পরীক্ষার্থীদের মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন। অতিরিক্ত ফি এলাকা ও স্কুলভেদে বিভিন্ন পরিমাণ। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থীদের ৮০০ টাকা থেকে এক হাজার, ভিকারুননিসার ছাত্রীদের ১ হাজার টাকা, দনিয়া এ কে স্কুলে ৮০০ টাকা, পুরান ঢাকার স্কুলগুলোতে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা করে ব্যবহারিক পরীক্ষায় নেয়া হচ্ছে। মাধ্যমিকের পরীক্ষায় ব্যবহারিক অংশে ২৫ নাম্বার।  এর পুরোটাই ‘বহি পরীক্ষকের’ মর্জির ওপর ভিত্তি করে। তারা ইচ্ছা করলে বা খুশি থাকলে পুরোটাই দিয়ে থাকেন। পুরো নাম্বার কীভাবে পাওয়া যায় তার নানা কৌশল রয়েছে রাজধানীতে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো ও স্কুলের মধ্যে অলিখিত সমঝোতা, অর্থের বিনিময়ে অথবা অর্থ প্রদানে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করাসহ নানা কৌশল অবলম্বন করা হয়ে থাকে।  এ প্রসঙ্গে রাজধানীর একটি  বেসরকারি স্কুলের অধ্যক্ষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি অনেকটাই ‘ওপেন-সিক্রেট’। এ টাকা যে বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা সেই বিষয়ের শিক্ষকরাই আদায় ও বিতরণ-বণ্টন করে থাকেন।  এদিকে ব্যবহারিক পরীক্ষায় নকলের সুযোগ দেওয়া হবে, নম্বরও দেওয়া হবে বেশি—এমন আশ্বাসে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে। অভিযোগ অনুযায়ী, যাদের এক বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা, তাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা করে। দুই বিষয় হলে এই অঙ্ক ৫০০ টাকা। আর পাঁচ বিষয়ের জন্য প্যাকেজ নেওয়া হচ্ছে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে।  এ টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করছেন তাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা। এ ক্ষেত্রে টাকা দিলে মিলছে নকলে সহযোগিতার আশ্বাস; আর না দিলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি। রৌমারীতে খুঁজে এমন স্কুল পাওয়া যায়নি, যেখানে এ টাকা আদায় করা হয়নি।  রৌমারী সি জি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক পরীক্ষার্থী জানায়, প্রধান শিক্ষক তাদের কাছ থেকে এক হাজার টাকার এক পয়সাও কম নেননি। এক অভিভাবক বলেন, ব্যবহারিক পরীক্ষায় টাকা আদায় এখন ট্রেডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক সহকারী শিক্ষকের প্রশ্ন, এই যে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে প্রায় ১০ লাখ টাকা আদায় করা হলো—এ টাকা কারা পাবে? কোমরবাঙ্গি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, খালি আমাদেরটা চোখে দেখেন? ঢাকায় তো প্রতি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।  প্রধান শিক্ষকদের যুক্তি, ব্যবহারিক পরীক্ষায় অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এসে পরীক্ষা নেন। খরচ না দিলে ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর কম দেন তাঁরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষার্থীরা।  উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল কবীর বলেন, অবৈধভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ কেউ আমার কাছে করেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

উৎস: দৈনিক শিক্ষা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ