নীলফামারী প্রতিনিধি: সংরক্ষিত ছুটি ঘোষনার মাধ্যমে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার শতাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকা ও সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছেন নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার। আজ সোমবার ১৪/০৩/২০১৬ তারিখে দুপুরে সংসদ সদস্য তার ডিমলা উপজেলা শহরের বাসভবনের মিল চাতাল চত্বরে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের আয়োজনে উপজেলায় কর্মরত সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক শিক্ষিকাগন উপস্থিত ছিলেন। সরকারী নিয়মনীতি লংঘন করে একজন এমপি সমাবেশ ডাকতে পারেন কিনা এ প্রশ্ন উঠেছে। সমাবেশ আহ্বানের সংগঠনের নামকরনেও রয়েছে প্রশ্ন। যে নামের সংগঠন তার নিবন্ধন রয়েছে কিনা সে প্রশ্নও উঠেছে সাধারনের মাঝে। যার যখন যেভাবে মনে ধরে সংগঠন করল আর সমাবেশের ডাক দিল। নিয়মনীতি চুলায় যাক এমন অভিমত সাধারনের। স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ, ডিমলা উপজেলা কমিটির আহবায়ক আশফাকারুল হক পিনু উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়ে সকাল সাড়ে দশটায় সমাবেশে যোগদানের আহ্বান জানালে ডিমলা সরকারী আরবিআর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়সহ প্রায় শতাধিক স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষকগণ সকাল সকাল স্কুল-কলেজ-মাদরাসা ছুটি দিয়ে সমাবেশে যোগদেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার ছাড়াও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান তবিবুল ইসলাম, ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ হাসিম হায়দায় অপু, সরকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক হানিফ সরকার, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি লুৎফর রহমান, সম্পাদক রেজাউল করিম প্রমুখ। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, স্কুলের সময় সমাবেশ না করার জন্য আয়োজকদের অনুরোধ করার পরেও তারা অতি উৎসাহী হয়ে সকালে সমাবেশের আয়োজন করায়, অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রতিষ্ঠান ছুটি দিতে হয়। একদিনে উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংরক্ষিত ছুটির আওতায় এনে শিক্ষকদের নিয়ে এমন মতবিনিময় সভা সাধারন মানুষ, অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ডিমলা উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে তার আত্বীয় স্বজন সহ সকল ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের চেয়ারম্যান হিসাবে বিজয়ী করে আনতে এ সকল সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তার দলের নেত্রীর ভাষায় সুক্ষ কিংবা স্থুল কারচুপির কোন মন্ত্র দাতার ভূমিকায় এসেছেন কিনা। নির্বাচনের পুর্ব মূহূর্তে হঠাৎ করে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে এ সমাবেশের উদ্দেশ্যকে ঘিরে এমনি হাজারো প্রশ্ন ডিমলার বাতাসে ভাসছে। যার কোন জবাব কারো জানা নেই। এ ব্যাপারে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায় নি।
উল্লেখ্য যে, গত শনিবার (১২ মার্চ) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার এমনি একটি মত বিনিময় করেন। রবিবার ১৩ মার্চ ডিমলা জনতা কলেজে স্বাধীনতার ইতিহাস শিক্ষার নামে ৭টি স্কুল কলেজ বন্ধ রেখে একটি আলোচনা অনুষ্ঠান করেন। আগামী ১৬ মার্চ ডিমলা উপজেলার ১৬টি কলেজের শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভা করবেন।