আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান খুবই ভালো । বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত করা হয়েছে। গতবারের চেয়ে আসন সংখ্যা কমলেও বেশ ভালো গরিষ্ঠতা নিয়েই তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠন করবে বলে সমীক্ষায় বলা হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস জোট তৈরি করে ‘একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী’ নীতি কার্যকর করায় তৃণমূল কংগ্রেসকে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী ও নেতাদের অর্থ নেয়া নিয়ে নারদা স্টিং অপারেশন এবং ফ্লাইওভার ভেঙে পড়ার ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস বেশ কোণঠাসা হয়ে রয়েছে। তবে ভোট বাক্সে তার কি প্রভাব পড়বে তা নিয়ে এখনও কোনো সমীক্ষা হয়নি। টাইমস নাও ও ডি ভোটারদের ওপর পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ১৬০টি আসন। অর্থাৎ তাদের জয় নিশ্চিত বলে ধরে নেয়া হচ্ছে। গতবারের বিধানসভা নির্বাচনে তারা পেয়েছিল ১৮৪টি আসন। আর শতাংশের হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস পাবে ৩৯.৬ শতাংশ ভোট। বিরোধী জোট পেতে পারে ১২৭টির মতো আসন। এর মধ্যে বামফ্রন্টই পাবে বেশি আসন। তারা পাবে ১০৬টি আসন। গতবার তাদের আসন সংখ্যা ছিল ৬০। কংগ্রেস পেতে পারে ২১টি আসন। ফলে জোট করে বামফ্রন্ট ফায়দা তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে কংগ্রেস অনেকটাই পিছিয়ে পড়বে। গতবার অবশ্য কংগ্রেস তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে পেয়েছিল ৪২টি আসন। এবারের নির্বাচনে বিজেপি তাদের হারানো ভোট অনেকটা ফিরিয়ে আনতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। গত লোকসভা নির্বাচনে ১৭ শতাংশ ভোট বিজেপি পেলেও পরবর্তী স্থানীয় সব নির্বাচনে তাদের ভোট অনেকটাই কমে গিয়েছিল। সেদিক থেকে এই জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী বিজেপি প্রায় ১১.৪ শতাংশ ভোট পেতে পারে। তবে আসন সংখ্যা হবে মাত্র ৪। অন্যান্যরা পেতে পারে ৩টি আসন। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, বিজেপি যেখানে ১১.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে পাবে ৪টি আসন সেখানে কংগ্রেস ৮.৩ শতাংশ আসন পেয়ে পাবে ২১টি আসন। অন্য তিন রাজ্যের নির্বাচন নিয়ে যে জনমত সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে. আসামে সামান্য ব্যবধানে বিজেপি’র নেতৃত্বাধীন এনডিএ ক্ষমতায় আসতে পারে। ১২৬ আসনে বিধানসভায় এনডিএ জোট পেতে পারে ৫৫টি আসন। আর গগৈর কংগ্রেস পেতে পারে ৫৩টি আসন। বিজেপি নেতারা সুবাতাস বইছে বলে দাবি করলেও তাদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে। বরং বদরুদ্দিন আজমলের এআইইউডিএফ ১২টি আসন পেয়ে সরকার গঠনে ভূমিকা নেবে। কেরলে এলডিএফ’র দিকেই মানুষ ঝুঁকে রয়েছেন। সেখানে ১৪০টি আসনে মধ্যে বাম নিয়ন্ত্রিত এলডিএফ পাবে ৮৬টি আসন। আর কংগ্রেস সমর্থিত ইউডিএফ পাবে ৫৩টি আসন। বিজিপি পেতে পারে একটি আসন। তামিলনাড়ুতে জয়ললিতা অনেক আসন খোয়ালেও তারাই ক্ষমতায় ফিরে আসবে বলে সমীক্ষার মত। গতবারের ২০৩ থেকে এআইডিএমকের আসন নেমে আসবে ১৩০টিতে। অন্যদিকে করুণানিধির ডিএমকে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৭০। এই রাজ্যে বিজেপি একটিও আসন পাবে না। তবে কংগ্রেস ডিএমকে’র সঙ্গে জোট করে বেশকিছু আসন পাবে। ছোট্ট রাজ্য পুদুচেরি নিয়ে অবশ্য কোনো সমীক্ষা হয়নি।