• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

শিকলমুক্ত হলেও অর্থনৈতিক মুক্তি পায়নি আঞ্জুয়ারা

Badarganj  Photo ANJUআজমল হক আদিল, বদরগঞ্জ (রংপুর) : ফুটফুটে মেধাবি আঞ্জুয়ারা বছর সাতেক আগে পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লেখাপড়া আর ৬ সন্তানের ভরন পোষন পিয়ন পিতার জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এমতবস্থায় এক প্রতিবেশির পরামর্শে পিতার সম্পর্কে চাচা নাটোরে অবস্থানকারি মতিন পিন্সিপালের বাসায় গৃহকর্মি হিসেবে পাঠিয়ে দেয়া হয় মেধাবি আঞ্জুয়ারাকে। এভাবে গড়িয়ে যায় তিনটি বছর। এই তিন বছরে বাড়িতে আসতে দেয়নি আঞ্জুয়ারাকে। বাবা অনেক চেষ্টা করেও তাকে আনতে পারেনি। অবশেষে বাবা আফজাল নিরুপায় হয়ে নাটোরে গিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসে। বাড়িতে এসে বাবা লক্ষ্য করে তার মেয়ে অস্বাভাবিক আচরন করছে । অনেক ডাক্তার কবিরাজ দেখিয়েও কোন ফল হয়নি। আঞ্জুয়ারার বাবা এখন নিঃস্ব প্রায়। পিয়ন পিতার বেতনের চেকটিও আঞ্জুয়ারার চিকিৎসার খরচ জোগাতে  মানুষের কাছে বন্ধক রয়েছে। এমনকি বাড়ি সংলগ্ন মসজিদের ইমামতি করার কারনে তাকে যে টুকু জমি চাষাবাদের জন্য মসজিদ কতর্ৃৃপক্ষ দেয় সে জমি টুকুও বন্ধক রেখেছেন মেয়ের চিকিৎসার জন্য। বর্তমানে বাড়ি ভিটে ছাড়া আর কিছুই নেই। এত কিছুর পরও আঞ্জুয়ারা সূস্থ্য হয়নি। শৃঙ্খলে আবদ্ধ কিশোরি আঞ্জুয়ারা সাময়িক শৃঙ্খল দশা হতে মুক্তি পেলেও অর্থনৈতিক দৈন্য দশা তার পরিবারকে অক্টোপাসের মত ঘিরে রেখেছে। সেখান থেকে যেন বেরুবার পথ নেই তার। সরেজমিনে আজ রোববার (৩রা এপ্রিল) সকালে উপজেলার রাধানগর ইউপির আরজি দিলালপুর বানিয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে কথা হয় আঞ্জুয়ারার পিতা আফজাল হোসেনের সাথে, তিনি জানান; আমার মেয়েটিকে শারিরীক ও মানষিক নির্যাতনের ফলে তার মস্তিৃস্ক বিকৃতি ঘটেছে। আমি এখন পথের ভিখারি। মেয়ে আঞ্জুয়ারা এখন দিন কাটে তার নিজের ইচ্ছায়। কথা হয় আঞ্জুয়ারার মা সামসূন্নাহারের সাথে তিনি জানান; আমার মেয়েটিকে পাগল করে আর কোন খোঁজ রাখেনি প্রিন্সিপাল সাহেব। এরই মধ্যে তিনি মারা যান। তার পরিবারের কাছে একাধিকবার সাহায্যের আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি,উল্টো দেখে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়। প্রিন্সিপাল আব্দুল মতিনের ছেলে বদরে মুনির ছানি মোবাইল ফোনে জানান; তাকে (আঞ্জুয়ারার পিতাকে) অনেক সাহায্য করা হয়েছে। আমাদের পক্ষে আর সাহায্য করা সম্ভব না।
এদিকে আঞ্জুয়ারার ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ ছাপা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে আঞ্জুয়ারার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। মেডিকেল বোর্ডের প্রধান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মনোয়ারা বেগম জানান; আঞ্জুয়ারার যে ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজন তা আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অবশ্যই বাহিরে পাঠাতে হবে।
উপজেলা মহিলা বিষযক কর্মকর্তা মৌসুমি আকতার জানান; আঞ্জুয়ারার বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অচিরেই এর একটি সূরাহা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ