দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪২৩ সন উদযাপিত হয়েছে। এসব আয়োজনের মধ্যে ছিল আনন্দ শোভাযাত্র, পান্তা ভাতের আয়োজন, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল।
১৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বাংলা নববর্ষ ১৪২৩ সন উপলক্ষে নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও বৈশাখী উৎসব উদযাপন পরিষদ’র উদ্যোগে দিনাজপুর বড়মাঠ সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ হতে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম।
শোভা যাত্রায় নানা রঙের মুখোশ পড়ে, মাথায় গামছা বেধে, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরুর গাড়ী, ঘোড়ার গাড়ী, মহিষের গাড়ী, হাতি, পালকি, তীর-ধনুক, বিভিন্ন জীবজন্তুর ছবি, নৌকায় চড়ে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। এছাড়া কিষাণ-কিষাণী, জেলে, তাঁতী, কামার-কুমার, বর-কনে, ডাক্তার, নার্স, দরবেশ, পাগলা বাবা, বৈরাগীসহ বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও কিশোর-কিশোরী ও নানা বয়ষের নারী-পুরুষ আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রায় অতিথিদের মধ্যে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ হোসেন, বৈশাখী উৎসব উদযাপন পরিষদের আহবায়ক মো. সফিকুল হক ছুটু, দিনাজপুর চেম্বারের সভাপতি মো. মোছাদ্দেক হুসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, দিনাজপুর জিলা স্কুল, সরকারী বালিকাা উচ্চ বিদ্যালয়, দিনাজপুর মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল (বাংলা স্কুল), সারদেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, ইকবাল উচ্চ বিদ্যালয়, দিনাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দিনাজপুর সরকারী কলেজ (মাধ্যমিক শাখা), সরকারী মহিলা কলেজ, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ, আল-আমিন একাডেমী, দিনাজপুর মহিলা আলিম মাদরাসা, দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, বঙ্গবন্ধ শিশু-কিশোর মেলা, নবরুপী, গ্যালাড়ী ষড়ং, দিগন্ত শিল্পী গোষ্ঠী, মনি মেলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। এ ছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন তাদের নিজস্ব ভ্যানুতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানান কর্মসূচী পালন করে।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও শিশু একাডেমীর যৌথ উদ্যোগে শিশু একাডেমী মিলনায়তনে সকালে শিশুদের জন্য চিত্রাংকন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে। এছাড়া গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে দিনাজপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে দিনাজপুর স্টেশন ক্লাবের উদ্যোগে বর্ষবরণ উপলক্ষে সকালে ক্লাব প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পান্তা ভাত খাওয়ার আয়োজন করা হয়। এতে ক্লাবের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, অতিথি পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন, ক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ শামীম কবির, ক্রিড়া সম্পাদক মো. সাইদুর রহমানসহ ক্লাবের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দিগন্ত শিল্পী গোষ্ঠি চাউলিয়াপটিস্থ নিজস্ব কার্যালয়ে সকালে পান্তা ভাত খাওয়ার আয়োজন করে ও বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আযোজন করে। এতে সংগঠনের নিজস্ব শিল্পীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।
এছাড়া শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন পান্তা ভাত, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বৈশাখী মেলার আয়োজন করে।
এদিকে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সাদা পোষাকে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।
হাবিপ্রবি : হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪২৩ পালিত হয়েছে। পুরাতন, জরা আর জীর্ণকে বিদায় জানিয়ে শুভ, সুন্দর ও মঙ্গলকে বরণ করার আকাঙ্খা ও সম্ভাবনায় হাবিপ্রবি’র ছাত্র-ছাত্রীরা মেতে উঠে আনন্দ উদযাপনে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সাজানো হয় নতুন রূপে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. রুহুল আমিন’র নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এসময় ঢাক-ঢোল, বাঁশি আর একতারার সুরে নেচে-গেয়ে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ছাত্র-ছাত্রীরা।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. আনিস খান, আইআরটি’র পরিচালক প্রফেসর মো. মিজানুর রহমান, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. সাইফুর রহমান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা শাখার পরিচালক প্রফেসর ডা. এসএম হারুন-উর-রশীদ, প্রফেসর ডা. মো. ফজলুল হকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
শোভাযাত্রা শেষে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. রুহুল আমিন নববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এছাড়া বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হাবিপ্রবি শাখা, সাংস্কৃতিক সংগঠন অর্ক, রোটার্যাক্ট ক্লাবসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী নানাবিধ কর্মসূচি পালন করে। নববর্ষ উপলক্ষে ক্যাম্পাসে মোট ২০ টি স্টল বসে।