• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

১৬০ চিকিৎসকের বেতন বন্ধ

ডাক্তারসিসি ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ১৬০ চিকিৎসকের বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে উচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করার পর তাদের বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি উপস্থিতি খাতায়ও তাদের স্বাক্ষর করতে দেওয়া হচ্ছে না।
গত ১২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল হান্নান স্বাক্ষরিত বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ১৬০ চিকিৎসককে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই দিন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত উচ্চ আদালত ওই চিকিৎসকদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্থিতাবস্থা আদেশ দিয়েছেন।
উচ্চ আদালতে রিটকারী চিকিৎসকদের একজন ডা. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত উচ্চ আদালত আমাদের স্থিতাবস্থা আদেশ দিয়েছেন। এর পরও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা কার্যকর করছে না।
তবে বিএসএমএমইউর উপাচার্য ডা. কামরুল হাসান বলেন, উচ্চ আদালতের আদেশ অফিসিয়ালি এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেনি। সংক্ষুব্ধ কয়েকজন চিকিৎসক ১৩ এপ্রিল দুপুরের পর আদালতের আদেশের ফটোকপি সংবলিত একটি কপি অফিসে দিয়েছেন। আদালতের আদেশ অফিসিয়ালি না আসা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
এ ছাড়া উচ্চ আদালতের রায় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসকদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, বিএসএমএমইউর প্রয়াত উপাচার্য ও বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতা অধ্যাপক ডা. এমএ হাদীর সময় ২০০৫ সালে ১৮ অক্টোবর অস্থায়ীভাবে ‘কিছু সংখ্যক’ মেডিকেল অফিসার নিয়োগের জন্য দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শতাধিক চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে।
এ নিয়োগের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন বর্তমানে আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান।
রিটের শুনানিতে বলা হয়, ২০০ জনের বেশি চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। সে অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০০৬ সালের ২ মার্চ ১৯৪ চিকিৎসক কর্মস্থলে যোগদান করেন। ওই বছরের ২৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ২৩তম সভায় ওই নিয়োগ ও যোগদান অনুমোদিত হয়।
পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬তম সিন্ডিকেট সভায় বিজ্ঞাপিত পদের বিপরীতে ১৭৪ জনের চাকরি স্থায়ী করা হয়। এতে সিন্ডিকেট সদস্য এম ইকবাল আর্সলানও উপস্থিত ছিলেন, তখন তিনি এর বিরোধিতা করেননি।
তবে ২০১০ সালের ১৪ ডিসেম্বর রিট আবেদনকারী এম ইকবাল আর্সলানের পক্ষে রায় দেন হাইকোর্ট। ওই রায়ে চিকিৎসকদের নিয়োগ ও তার কার্যকারিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়। ২০১০ সালের ২০ ডিসেম্বর সংক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে চ্যালেঞ্জ করলে তৎকালীন চেম্বার জজ হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। এরপর এ বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সে রায় বহাল রাখেন। এরপর চিকিৎসকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ এপ্রিল উচ্চ আদালত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্থিতাবস্থা আদেশ দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়োগপ্রাপ্ত ১৯৪ চিকিৎসকের মধ্যে কেউ কেউ চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। কেউ বিদেশে চলে গেছেন। কেউ মারা গেছেন।
সংক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা জানান, ওই নিয়োগ অবৈধ হলে তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। চিকিৎসকদের কোনো দোষ নেই। দীর্ঘদিন চাকরি করে অনেকের বয়স ৪১ থেকে ৪৫ বছর অতিক্রম করেছে। ৫০ জনেরও বেশি উচ্চতর ডিগ্রি এবং ১০ থেকে ১২ জন সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক হয়েছেন। এসব চিকিৎসক প্রায় ১০ বছর ধরে কাজ করে দক্ষতা অর্জন করেছেন।
এ অবস্থায় তাদের চাকরিচ্যুত করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা ও শিক্ষায় পিছিয়ে পড়বে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে এখনও চাকরি রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।
উপাচার্য ডা. কামরুল হাসান বলেন, এসব চিকিৎসকের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে আমি সহানুভূতিশীল। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে সবার মান্য করতে হবে। আদালতের রায় মেনে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান তিনি।

উৎস: বিবার্তা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ