বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: সোনালী ব্যাংক লিমিটেড বিরামপুর শাখার জুনিয়র অফিসার মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের লোন প্রদানের বিপরীতে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।
স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগে প্রকাশ, শিক্ষকরা তাদের চাকুরীর বিপরীতে পারসোনাল লোন নিয়ে থাকেন। এই লোন তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন, শাখার জুনিয়র অফিসার মিজানুর রহমান। লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকরা ফরম পুরণ করে তার কাছে গেলে তিনি লোন প্রতি ৪/৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার লোন আর পাশ হয়না। শিক্ষকরা অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে ঘুষের বিনিময়ে লোন নিয়ে থাকেন। এব্যাপারে শিক্ষকরা শাখা ব্যবস্থাপক নাজিম উদ্দিনের নিকট মৌখিক ভাবে অভিযোগ করে কোন সুবিচার পান নাই। নিরূপায় শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে ব্যাংকের রংপুর জেনারেল ম্যানেজারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। জেনারেল ম্যানেজার মাহবুবুর রহমান টেলিফোনে জানান, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন এবং শীঘ্রই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন।
বিরামপুরে শিক্ষিকার প্রহারে স্কুল ছেড়েছে ছাত্রী!
বিরামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার প্রহারে ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্রী স্কুল ছেড়েছে। প্রহারের ভয়ে প্রায় দেড় মাস ধরে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ রয়েছে।
কাটলা ইউনিয়নের দঃ হরিরামপুর গ্রামের কর্মকার পরিমল রায় বলেন, দঃ হরিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা বিভা রাণী গত ৯ মার্চ পরিমলের মেয়ে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ঋশিতা রাণীকে বেত দিয়ে প্রহার করে। এতে ঋশিতা বাসায় এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পিঠে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পরিমল বিষয়টি তাৎক্ষণিক ভাবে বিদ্যালয় সভাপতিকে জানান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু কোন সুবিচার না পাওয়ায় এবং ছাত্রীটি ভয়ের কারণে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় দেড় মাস ধরে আর স্কুলে যায়নি। পরিমল দাবি করেন, ছাত্রী ও শিক্ষিকার বাড়ি একই মহল্লাতে হওয়ায় তাদের মাঝে পারিবারিক বিরোধের কারণে ছাত্রীটিকে প্রহার করা হয়েছে। স্কুলের সহকারি শিক্ষিকা বিভা রাণী জানান, তিনি ঐ ছাত্রীকে প্রহার করেন নাই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, বিষয়টি নিয়ে তার দপ্তরে শালিস দরবার হয়েছে। কিন্তু তিনি অভিযোগের কোন সত্যতা পান নাই। তিনি ঐ ছাত্রীকে স্কুলে পাঠানোর জন্য তার পিতাকে বলেছেন। প্রধান শিক্ষক শ্যামাপদ রায় বলেন, তিনি নিজে, শিক্ষিকা বিভা রাণী ও স্কুল সভাপতি বাড়িতে গিয়ে চাত্রীকে স্কুলে পাঠানোর জন্য পরিমলকে অনুরোধ করেছেন। তবে পরিবেশ স্বাভাবিক হচ্ছে এবং অচিরেই ছাত্রীটি স্কুলে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।