• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

পুলিশের হাতে ১০ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড

সাউন্ড গ্রেনেডসিসি ডেস্ক: সহিংসতা ও দাঙ্গা ঠেকাতে ১০ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড আমদানি করেছে পুলিশ। গত অর্থ বছরে ব্রাজিল থেকে নিয়ে আসা এসব সাউন্ড গ্রেনেড বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এই সাউন্ড গ্রেনেড ছাড় করতে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ৪ কোটি ৯৫ লাখ ২২ হাজার ৬৮৫ টাকা শুল্ক-ভ্যাট দাবি করে। ওই টাকার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১০ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অপারেশনাল কাজে ব্যবহারের জন্য ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ব্রাজিল থেকে ১০ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড আমদানি করা হয়। সেসব সাউন্ড গ্রেনেড বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে। সেখান থেকে এসব সাউন্ড গ্রেনেড ছাড় করানোর জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ ৪ কোটি ৯৫ লাখ ২২ হাজার ৬৮৫ টাকা দাবি করে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ক্রেডিট নোটের বিপরীতে তাদের এ টাকা পরিশোধের জন্য পুলিশ সদর দফতর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়।

গত ১০ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-৪ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, সাউন্ড গ্রেনেড আনার জন্য ব্যয় হওয়া অর্থ ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে পুলিশ বাজেটে কাস্টমস শুল্ক ও ভ্যাট খাতে বরাদ্দ করা অর্থ থেকে নির্বাহ করা হবে। তাই এই অর্থ বুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন কর্মকর্তা  বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদের বেশিরভাগ সময়ই শেষ হয়েছে। সাধারণত সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে বিরোধী দলগুলো আন্দোলন গড়ে তোলে। অতীতে আন্দোলনের নামে যেভাবে নাশকতা চালানো হয়েছিল, সে রকম নাশকতা দমনে এবং সাধারণ মানুষের জান-মাল রক্ষায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট প্রয়োজনে এসব সাউন্ড গ্রেনেড অপারেশনাল কাজে ব্যবহার করবে।

এর আগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলে হেফাজতের অবস্থান কর্মসূচিতে প্রথম সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যা তাদের নাশকতা দমনে ব্যাপক ভুমিকা পালন রাখে। পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সাউন্ড গ্রেনেডে জান-মালের ক্ষতি ছাড়াই দাঙ্গাবাজদের মনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া যায়। বড় বড় গণজমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেডের কার্যকারিতার কোনও বিকল্প নেই। হেফাজতের বিশাল সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার পর সাউন্ড গ্রেনেডের প্রতি পুলিশের আস্থা বেড়ে যায়। সে জন্য বড় ধরনের অপারেশনাল কাজে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আসছে।

পুলিশ সদর দফতরের একটি সূত্র জানায়, প্রায় চার বছর আগে পুলিশ অপারেশনাল কাজে ব্যবহারের জন্য চীন থেকে দশ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড আমদানি করেছিল। সেগুলো এখন শেষ পর্যায়ে। সে জন্যই আরও ১০ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড নিয়ে আসা হয়েছে। বিশেষ প্রযুক্তির রাবারের হ্যান্ড গ্রেনেড নিয়ে আসারও পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের। এছাড়া দাঙ্গা দমনে রাবার বুলেট, টিয়ার সেল, গ্রেনেড গ্যাস ও শটগানের গুলি, অ্যান্টি রায়ট হেলমেট, লেগসিন গার্ড, ঢাল ও লাঠিসহ বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করে পুলিশ।

সাউন্ড গ্রেনেড মানুষের প্রাণহানি না ঘটালেও শ্রবণশক্তিসহ শরীরের নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. দেবেশ চন্দ্র তালুকদার বলেন, সাউন্ড গ্রেনেডে মানুষের প্রাণহানি ঘটায় না এটা ঠিক। তবে বিকট আওয়াজের কারনে শ্রবণশক্তিসহ মানুষের শরীরের নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

ডা. দেবেশ চন্দ্র তালুকদার বলেন, শ্রবণশক্তির একটা সীমা আছে। উচ্চশব্দে হর্ন বাজাতেও আমরা নিষেধ করি। বিকট শব্দের কারণে ব্রণের নার্ভগুলো নিস্তেজ হয়ে যেতে পারে। সবসময় মাথার মধ্যে শোঁ শোঁ আওয়াজ হতে পারে। ক্ষেত্র বিশেষ মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, সাউন্ড গ্রেনেড নয়, সব ক্ষেত্রেই শব্দের একটা মাত্রা থাকা উচিত।

উৎসঃ   বাংলা ট্রিউন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ