নওশাদ আনসারী: গরমকাল আসতেই সৈয়দপুরের বিভিন্ন যায়গায় চোখে পড়ে বিভিন্ন শরবতের দোকান। বরফ, বেল,দই, বিট লবণ, লেবু দেখে স্বাস্থ্যকর শরবত মনে করে সচেতন মানুষও তৃষ্ণা নিবারণে ছুটে যান ফুটপাতের এসব দোকানে। কিন্তু কেউ জানে যে শরবতের এসব উপাদানের সাথে মিশানো হচ্ছে ঘানচিনি ও বেলের শরবতকে আরো গাড়ো করার জন্য মেশানো হচ্ছে রং। সরেজমিনে গিয়ে উঠে এসেছে এমন চিত্র।
গরমকালে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি পানে কিছুটা স্বস্তি আনে মানুষের জীবনে তাই সৈয়দপুর শহরের ছোট রেলঘুন্টি, বড় রেলঘুন্টি, রেললাইনের পাশে, টার্মিনাল সহ শহরের সব ব্যস্ততম এলাকায় এসব শরবত বিক্রি করতে দেখা গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেলো ছোট রেল ঘুন্টিতে শরবত বানাতে ব্যস্ত ফুটপাতের দোকানদার সব। একজন বেল কাটছে আরেকজন বানাচ্ছে, আবার মগকে নিচে নিয়ে ঠিক বেলের মতই মেশানো হচ্ছে এক প্রকার রং যেটা এই বেলের শরবতকে করছে আরো গাড়ো অথচ এটা স্বাস্থ্যের জন্য কতই ক্ষতিকর তা দোকানদর বুঝলেও তার গ্রাহককে বুঝতে দিচ্ছে না।
বিক্রেতারা মোহনীয় কণ্ঠে ক্রেতা সংগ্রহে ডাকতে থাকেন আবার সামনে আসলেই বাড়িয়ে দিচ্ছেন ঠান্ডা শরবত। তীব্র রোদে তৃষ্ণা নিবারণে কোনো বিচার না করে আকর্ষণীয় দেখতে হওয়ায় শহরবাসী ছুটে যাচ্ছেন এসব শরবতের দোকানে। গতকাল সৈয়দপুরে গরম কিছুটা কম হলেও তাপদাহ ঠিকই প্রভাব বিস্তার করে আছে গোটা সৈয়দপুরে। সকালের দিকে আকাশ মেঘলা থাকলেও দিন পোহাতেই ঝলমলে রোদ ঘড়ির কাটার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়াতে থাকে। বাড়তে থাকে অসহ্য গরমের তীব্রতা।
ছোট রেল ঘুন্টির বিক্রেতার কাছে বেলের শরবতে সেই রং ব্যবহারের বিষয়ে জানতেই চাইলে দ্বিধাহীনভাবে বলেন শরবতে হালকা রং আর ঘনচিনি ব্যবহার হবেই। একটি ছোট রঙ্গের পুড়িয়া খুলে দেখিয়ে বলেন, জানেন এইটুকু রং এর দাম কত? এভাবে বলার কারণ হলো এরা রং এর কুফল সম্পর্কে জানে না। যারা জানে তারা অবশ্য মুখ খোলে না। অনেক ক্রেতাও জানে না এই রং আর ঘানচিনি ব্যবহারের ফলে কী সমস্যা হয়।
সৈয়দপুর শহরে দেদারে বিক্রি হওয়া এসব ভেজাল শরবত পানে এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ৬১ শতাংশ মানুষ হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা ও মস্তিস্ক জটিলতায় ভুগে। ফুটপাথের এসব শরবতের বিষয়ে জানতে চাইলে তা জীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন সৈয়দপুরের বিশিষ্ট চিকিৎসক জনাব শেখ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এসব রং ঘণচিনি ও অস্বাস্থ্যকর পানি মিশ্রণে তৈরি এসব শরবত খাওয়ার ফলে ডাইরিয়া, কলেরা, জন্ডিস, হেপাটাইটিস এমনকি ভবিষ্যতে কিডনির সমস্যাসহ বড় ধরনের রোগ হতে পারে। সে কারণে গরমে সাময়িক কষ্ট হলেও ফুটপাথের এসব পানীয় পান করা থেকে সবার বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে ভেজাল এসব শরবত শিশুদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শরীরের গঠন থেকে শুরু করে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন ভেজাল মুক্ত খাবার। না হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম হবে মেধাশূন্য।
এদিকে গরমের তীব্রতায় প্রতিদিন মৌসুমী রোগে আক্রান্ত হয়ে শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভিড় করছে। আক্রান্তদের মধ্যে ভাইরাস জ্বর, ডায়রিয়া রোগী বেশি।