ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের দুই সহোদর অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন আহমেদ ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদসহ চারজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল।
মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি আনোয়ারুল হক নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে।
পাঁচ যুদ্ধাপরাধীর মধ্যে ফাঁসির আসামি কিশোরগঞ্জের আইনজীবী শামসুদ্দিন আহমেদই কেবল রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
শামসুদ্দিনের ভাই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ, রাজাকার কমান্ডার গাজী আব্দুল মান্নান, আজহারুল ইসলাম ও হাফিজউদ্দিন পলাতক।
এদের মধ্যে আজহারুলকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইবুনাল; বাকিদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।
এ মামলায় প্রসিকিউশনের আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে ১, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় পাঁচ যুদ্ধাপরাধীর সবাই ছিলেন আসামি।
এছাড়া ২ নম্বর অভিযোগে হত্যার ঘটনায় নাসির; ৫ নম্বর অভিযোগে হত্যার ঘটনায় শামসুদ্দিন; ৬ নম্বর অভিযোগে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যা এবং ৭ নম্বর অভিযোগে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মান্নানকে আসামি করা হয়।
একাত্তরে এই পাঁচ আসামি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতায় গঠিত রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন।
প্রসিকিউশনের তদন্ত দল ২০১৩ সালের ৬ জুন এই পাঁচ যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। এক বছর পাঁচ মাস ১৮দিন পর গতবছর ২৪ নভেম্বর তদন্ত কাজ শেষ হয়। তদন্ত চলার মধ্যেই ২০১৪ সালের ২৭ নভেম্বর ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার তারেরঘাট সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল শামসুদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন গতবছর ১০ মে এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করলে তিন দিন পর আদালত তা আমলে নেয়। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গতবছর ১২ অক্টোবর পাঁচ আসামির যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করে ট্রাইবুনাল।