আজমল হক আদিল, বদরগঞ্জ (রংপুর) : কৃষক মমিনুল ইসলাম(৫০)। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ফাটকের ডাঙ্গা গ্রামে। অনেক অর্থ আর হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে তিনি ১৭ বিঘা(৬০শতাংশে) জমিতে বোরো ধানের চাষ করেন। ফলনও হয়েছে বাম্পার কিন্তু তার মনে আনন্দ নেই কারন ধানের বর্তমান বাজার মুল্য (২৮ কেজি=১মন) ৩৬০টাকা। এতে করে কৃষক মমিনুলের বিঘা প্রতি ৬হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। বদরগঞ্জ পৌর শহর শাহাপুর এলাকার কৃষক লুৎফর রহমান ২০বিঘা জমিতে(৫২শতাংশে)বোরো ধান আবাদ করেছেন। ধান আবাদ করে তার লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন; আগামিতে ধানের দাম এমন হলে ধান চাষ করা তিনি কমিয়ে দিবেন। তিনি আরও জানান, গম ও ভ’ট্টাতেও কৃষকের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি এই প্রতিবেদকেই প্রশ্ন রেখে বলেন, ধানের এই দামে সন্তানদের লেখাপড়া আর সাংসারিক খরচ কিভাবে চালানো সম্ভব?
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারের বোরো মৌসুমে ১৭৪২৫হেক্টর জমিতে বোরোর চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উফসি-১৩২২৫হেঃ, হাইব্রিড-৪২০০হেঃ জমিতে। আবহাওয়া অনুকুল থাকায় ফলনও হয়েছে বাম্পার।
সরেজমিন উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায় কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে। কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির মাষানডোবা খিয়ারপাড়া গ্রামের কৃষক নওশাদ আলির সাথে তিনি জানান, এক বিঘা জমি আবাদ করতে খরচ হয় ১২হাজার ৫শত টাকা অথচ ধানের দাম মন প্রতি ৩৬০টাকা। ধানের দাম কমপক্ষে ৫শত টাকা হলে কৃষকের কিছুটা লাভ হতো। তিনি আরও জানান, সরকারি খাদ্য গুদামে আমাদের মতো প্রান্তিক কৃষকরা ধান দিতে পারে না,আমরা ধান নিয়ে গেলে যে কোন অজুহাতে খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে বিদায় করে দেয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান, চলতি মৌসূমে বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে তবে দাম কিছুটা কম হওয়ায় কৃষকের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এনামূল হক জানান, কৃষি অফিসের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা নিয়ে ধান গুদামজাত করা হয়। তিনি আরও জানান;চলতি মৌসুমে তালিকাভূক্ত কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হবে।