সিসি নিউজ: পল্লী বিদ্যুত সমিতির ছয় কর্মীকে বরখাস্তের কারন জানতে চেয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ আরো চার কর্মকর্তার নামে রুলনিশি জারি করেছে উচ্চ আদালত। মঙ্গলবার উচ্চ আদালতের বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সমন্বয়ে গঠিত ব্রেঞ্চ ওই আদেশ জারি করেন।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছাড়া অন্যান্য চার কর্মকর্তারা হলেন- পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন, বোর্ডের পরিচালক (মানব সম্পদ) দহিদুল ইসলাম, রংপুর পল্লী বিদ্যু সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার সোহরাব হোসেন, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (টেকনিক্যাল) রতিন্দ্রনাথ বর্মন, রংপুর পল্লী বিদ্যু সমিতি-২ এর সহকারী (অর্থ) রফিকুল ইসলাম। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এদিন আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মতিলাল বেপারী।
সূত্র মতে, ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রংপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ এর লাইনম্যান শফিয়ার রহমানকে কাজের অজুহাত দেখিয়ে সিলেট পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ এ বদলী করা হয়। বাড়িতে অসুস্থ্য অশীতিপর পিতা ও ঈদুল আজহার ক’দিন পূর্বে এ বদলীর ঘটনায় ওই লাইনম্যানের সহকর্মীরা জেনারেল ম্যানেজার সোহরাব হোসেনের কাছে মানবিক দৃষ্টিতে এটি স্থগিত করার মৌখিক আবেদন করে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে না নিয়ে লাইনম্যানরা সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করছে মর্মে চাকুরীচ্যুত করার হুমকি প্রদান করে। কর্মকর্তার এমন হুমকির প্রতিবাদে ১৭ সেপ্টেম্বর লাইনম্যানরা অফিস চত্ত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে।
আন্দোলনরত লাইনম্যানদের অভিযোগ মতে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে নিজেকে নীতিবান কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি ঘটানোর জন্য সুকৌশলে ওইদিন জিএম বহিরাগত সন্ত্রাসী দ্বারা আন্দোলনরত কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায় এবং অফিসের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এ ঘটনায় জিএম নিজে বাদী হয়ে তাৎক্ষনিক রংপুর সদর থানায় লাইনম্যান আবুল খায়ের, আলমগীর হোসেন, তৈয়ব আলী, ফকরুল আলম, মাসুদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমানের নাম উল্লেখসহ আরো ৩২ জনের নামে একটি মামলা (৪৭/৮০২) দায়ের করে। এসময় ওই মামলায় আবুল খায়ের ও আলমগীর হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করে। যা মামলাটি এখন তদান্তাধীন।
লাইনম্যান আবুল খায়ের ও আলমগীর জানায়, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় চলতি বছরের ২৩ মার্চ উল্লেখিত ৬ জনের নামে স্থায়ী বরখাস্তের লক্ষ্যে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন জিএম সোহরাব হোসেন। যা ২৭ মার্চ আমরা হাতে পাই এবং যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব দেয়া হয়েছে। এরপরে ওই কর্মকর্তা অফিসে ৬জন লাইনম্যানকে ডেকে বলেন, `মানসিক ভাবে প্রস্তুতি লও, তোমাদের চাকুরী নাই’।
তারা জানান, জেনারেল ম্যানেজারের এমন কথা শুনে আমরা মহামান্য উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে এ রীট পিটিশন দায়ের করি (৫০৮১/২০১৬)।