নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীতে আব্বাছ আলী (৬৫) নামের আরো এক নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির আরো এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার রাত নয়টার দিকে নীলফামারী থেকে গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে নীলফামারীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়শা সিদ্দিকার আদালতে হাজির করে পুলিশ। সেখানে তার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতারকৃত আব্বাছ পাশ্ববর্তী দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার পূর্ববাশুলী গ্রামের মৃত ওসমান আলীর ছেলে। সম্প্রতি এ নিয়ে জেলায় মোট পাঁচ জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
ডিবি পুলিশ জানায়, গত ২৮ এপ্রিল জেএমবির সক্রিয় সদস্য দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার লাণীপুর গ্রামের ছকিম উদ্দীনের ছেলে আব্দুস সবুরকে (২৫) নীলফামারী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ এপ্রিল নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের কিত্তনিয়াপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে আব্দুর রহমান (২৫), জেলা সদরের পলাশবাড়ি ইউনিয়নের আরাজি ইটাখোলা গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে মাসুদার রহমান ওরফে ইব্রাহীম ওরফে মাসুদ (৪২) ও মাসুদের ছোট ভাই মোশারফ হোসেনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল ছয়টি হাতবোমা, একটি চাপাতি ও চারটি চাকু উদ্ধার করা হয়।
ওই পাঁচ জেএমবি সদস্যের মধ্যে আব্দুস সবুর এবং আব্দুর রহমান সে সময়ে স্বাকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে কারাগারে পাঠানো হয় তাদেরকে। দুই সহোদর মাসুদার রহমান ওরফে ইব্রাহীম ওরফে মাসুদ ও তার ছোট ভাই মোশারফ হোসেনের তিন দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২ মে তাদেরকে রিমান্ড মঞ্জুর হলে ৩ মে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
নীলফামারী ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আখতার বলেন, নাশতকা সৃষ্টির লক্ষ্যে জেএমবি সদস্যরা নীলফামারীতে পুলিশ, বিচারক, পীর, খাদেমসহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে সংঘবদ্ধ হচ্ছে এমন সংবাদে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঐ পাঁচ জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক এরশাদ হোসেন বাদি হয়ে ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনের ৭, ৮, ৯, ১০, ১২, ১৩ ও ১৪ ধারায় সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।