• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

এবার ধামরাইয়ে স্কুল শিক্ষিকাকে মারধর ও লাঞ্ছনা

শিক্ষিকাসিসি ডেস্ক: নারায়নগঞ্জের এক শিক্ষককে কান ধরে উঠ বসের ঘটনায় যখন সারা দেশে তোলপাড় ঠিক সেই মুহূর্তে ঢাকার ধামরাইয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে টয়লেট থেকে বের করে মারধর ও লাঞ্ছনার অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ওই শিক্ষিকা। বুধবার উপজেলার ১১নং পশ্চিম সূত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটে।

ওই বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা জানায়, প্রধান শিক্ষিকা মোছা. ফৌজিয়া ইয়াসমিন গত শনিবার অফিস কক্ষ পরিবর্তন করে অন্য একটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন। এ নিয়ে সহকারী শিক্ষিকা কানিস নাসিমা ও সহকারি শিক্ষক আক্তার হোসেনের সঙ্গে তার কয়েকদিন ধরে কথা কাটাকাটি চলতে থাকে। এক পর্যায়ে গতকাল তারা ডেকে নিয়ে আসেন বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ ফজলুল হক ও সহ-সভাপতি আবদুল মালেককে। এ সময় আবদুল মালেক প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক সময় অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন প্রধান শিক্ষিকাকে। এর প্রতিবাদ করলে উত্তেজিত হয়ে তাকে মারতে যান আবদুল মালেক। এ পর্যায়ে ভয়ে আত্মরক্ষার্থে ফৌজিয়া ইয়াসমীন দৌড়ে বিদ্যালয়ের টয়লেটের ভিতরে যান। সেখান থেকে তাকে টেনে হিচড়ে বের করে ওই শিক্ষিকাকে মারধর করতে থাকেন আবদুল মালেক। এতে সহযোগিতা করেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আক্তার হোসেন ও কানিস নাসিমা। এক সময় ওই শিক্ষিকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। এ ঘটনায় ফৌজিয়া ইয়াসমীন জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

এ বিষয়ে ফৌজিয়া ইয়াসমীন বলেন, অফিস কক্ষ পরিবর্তন করায় তাকে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করার এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আমাকে মারতে আসে। আমি ভয়ে টয়লেটে গিয়ে আশ্রয় নেই। সেখান থেকে সহকারী শিক্ষিকা কানিস নাছিমা ও সহকারি শিক্ষক আক্তার হোসেনের সহযোগিতায় টেনে হিচড়ে বের করে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করে আবদুল মালেক।

এদিকে শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষিকা কানিস নাছিমা ও সহকারী শিক্ষক আক্তার হোসেন জানান, প্রধান শিক্ষিকা কারো সঙ্গে পরামর্শ না করে নিজের একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের কাজকর্ম করে থাকেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে তর্ক হয়েছে, তাকে মারধর করা হয়নি।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি আবদুল মালেক জানান, প্রধান শিক্ষিকা কারো সঙ্গে পরামর্শ না করে তার একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের সকল কাজ করে থাকেন। তিনি ঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে আসেন না। প্রতিদিন ঢাকা থেকে যাতায়াত করে থাকেন। তবে শিক্ষিকাকে মারপিটের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, তিনিই আমাকে জুতা নিয়ে মারতে এসেছে। তিনি আরো বলেন, টয়লেটের ভিতর থেকে বের করে আনার সময় হয়তো তিনি(প্রধান শিক্ষিকা) হাতে ব্যথা পেয়েছেন।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কাজী ফজলুল হক জানান, শিক্ষিকা মারধরকরা হয়নি তবে টানা-হেচড়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, শিক্ষিকা সকলের সঙ্গেই অস্বাভাবিক আচরণ করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষিকাকে মারধরও লাঞ্ছিতের ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ