সিসি ডেস্ক: পল্লী বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে ২৫ লাখ গ্রাহককে সংযোগ দেওয়াসহ ৬ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
প্রকল্পগুলোতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৪৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ১৫৪ কোটি ৮০ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১ হাজার ৫৯০ কোটি ৯ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন, বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং ২৫ লাখ নতুন গ্রাহককে সংযুক্ত করা হবে। এই প্রকল্পটিতে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকার ইনভেস্টমেন্ট (এআইআইবি) ব্যাংক ঋণ দেবে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিতকরণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। সরকারের এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এলাকাভিত্তিক পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্য়ক্রমের মাধ্যমে বিদ্যুৎসেবা প্রদান করে আসছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ২০১৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৩০ লাখ ১ হাজার কিলোমিটার লাইনের মাধ্যমে ১৫০ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎসেবা প্রদান করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড একটি ইন-হাউজ ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করেছে। স্টাডি রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডেও (বাপবি) বিদ্যুতায়িত এলাকায় কোনো বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ ব্যতিরেকে শুধুমাত্র ট্রান্সফরমার পরিবর্তন করে সার্ভিস ড্রপ-এর আওতায় আরও ২৫ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করা সম্ভব।
পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং বিভিন্ন শ্রেণীর ২৫ লাখ নতুন গ্রাহককে সংযোগ প্রদানের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়েছেন ইমারজেন্সি ২০০৭ সাইক্লোন রিকভারি অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রকল্পে আর সময় বাড়ানো হবে না। তাই ২০১৭ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে।
অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, পল্লী বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে ২৫ লাখ গ্রাহক সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২২৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
ইমারজেন্সি ২০০৭ সাইক্লোন রিকভারি অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ইমারজেন্সি ২০০৭ সাইক্লোন রিকভারি অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রকল্পের (ইসিআরআরপি : ডি১ ডিডিএম) ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের (২য় পর্যায়) ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া ও রংপুর সদর উপজেলায় তিস্তা নদীর ডান ভাঙন হতে রক্ষা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
বিসিএস ইকোনমিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, পরিকল্পনা সচিব তারিক-উল-ইসলাম, আইএমইডির সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র সদস্য ড. শামসুল আলম।