সিসি নিউজ: শিলা আর নাজিরা দুই কিশোরী। তারা একই গ্রামের দূরসম্পর্কের বোন। দুজনই ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ে। তাদের বাড়ি নীলফামারী জেলার জলঢাকা গ্রামে। গত এক সপ্তাহ আগে জোসনা নামের তাদের এক দাদী ঢাকায় আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে নিয়ে যাবে বলে তাদেরকে স্কুল থেকে নিয়ে আসে বলে জানায় শিলা। এরপর তাদেরকে কোথায় নিয়ে এসেছে তার কিছুই জানে না এবং এখানকার কাউকে চেনে না তারা।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে দুই কিশোরী চট্টগ্রাম মহানগরীর সিটি গেটস্থ সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাড়ির সামনের পুকুরপাড়ে বসে থাকতে দেখেন মনজুর আলমের বাড়ির কেয়াটেকার মিন্টু। সন্দেহ হলে মেয়ে দুটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে তাদের বাড়ি নীলফামারীতে।
ততক্ষণে কিছু বখাটে যুবক মেয়ে দুটিকে ঘিরে ফেলে। এরপর মিন্টু মেয়রের ভাতিজা সীতাকুন্ডের সাংসদ দিদারুল আলমের পরামর্শে ওই মেয়ে দুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে হেফাজতে রাখেন। বর্তমানে মেয়ে দুটি সেখানেই আছে।
শিলা জানায়, একটি বড় বাস স্টেশনে নামার পর তাদের সেই দাদী দুজনকে একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদেরকে কাজ করতে বলে। তখন তারা জানতে চায় আমরা বেড়াতে এসেছি কাজ করবো কেন? এরপর তাদেরকে মারধর করা শুরু হয়। আর এরই মধ্যে চম্পট দেন তাদের সেই দাদী।
দাদী কোথায় জিজ্ঞেস করলে জানায় চলে গেছে। এরপর গত ৬ দিন তাদেরকে নানা ধরনের নির্যাতন করে বলে জানান শিলা ও নাজিরা দুজনই। কি ধরনের নির্যাতন করেছে জানার চেষ্টা করলে শিলা জানায় অনেক খারাপ নির্যাতন আমাদের সহ্য হয়েছে। তখন তারা দুজনেই কৌশলে ওই বাসা থেকে পালিয়ে আসে। ধারণা করা হচ্ছে তাদের সেই দাদী কৌশলে দুজনকেই কোনো শিশু পাচারকারীর কাছে বিক্রি করে দিয়ে পালিয়েছে।
শিলা জানায়, তার বাবার নাম শহীদুল। তারা ৩ বোন ১ ভাই। সে বেলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ে। নীলফামারীর জলঢাকায় তাদের গ্রাম। তার বড় বোনের নাম শারমিন আর ছোট বোনের নাম সুমাইয়া। মোখলেস নামে তার এক চাচা আছে। তার বাবা শহীদুল পেশায় কৃষক।
অপরদিকে নাজিরা জানায়, তার বাবার নাম জানিয়া। মা আনিছা বেগম। ২ বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সে দ্বিতীয়। তার বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। বাবা পেশায় কৃষক। জলঢাকা বিন্নাকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ে সে। তাদের প্রধান শিক্ষকের নাম সেলিম। এর বাইরে আর কোনো তথ্য জানাতে পারছে না মেয়ে দুটি। এই দুই কিশোরীর সঠিক অভিভাবকের খবর পাওয়া গেলে এই নম্বরে (০১৮৩৬৫৬৯৯৮৯) যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।