আজমল হক আদিল ,বদরগঞ্জ (রংপুর) :রংপুরের বদরগঞ্জ পল্লীতে নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করে প্রানের ভয়ে বাাদী পরিবার ঘর ছাড়া হয়েছে। সেইসাথে পুলিশি গ্রেফতার আতংকে পুরুষ শুণ্য ওই গ্রামের নারী ও শিশুরা গত ৫দিন ধরে জীবিকার প্রয়োজনীয় সঞ্জামাদী না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তার প্রতিপক্ষ প্রার্থী আনারুল হকের কর্মী বৈরামপুর ধোপানীরঘাট গ্রামের মৌচার রহমানের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে বাড়ীঘর ভাংচুর করে। এসময় মৌচারের ভাই মমিনুল ইসলাম (২৫) বাধা দিতে গেলে চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার ৪০/৪৫ জন ভাড়াটে লোকজন ধারালো অস্ত্র উচিয়ে গ্রামবাসীকে জিম্মি করে তাকে কুপিয়ে জখম করে। তার আত্মচিৎকারে পিতা মনজুল হক (৫৬) এগিয়ে গেলে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা বল্লম দিয়ে খুচিয়ে তাকে আহত করে মাটিতে ফেলে রাখে। এরপর মৌচারের মাতা মর্জিনা বেগম (৫০) ও বোন শেফালী বেগমকে (২৮) সামনে পেয়ে বেদম মারপিট করে। মারের চোটে সবাই জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সন্ত্রাসীরা মৌচার আলী ও তার প্রতিবেশী আজমুল হকের বাড়ীঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এতে করে ৩০হাজার টাকার মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। অন্যদিকে গ্রামবাসী আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। সেখানে মৌচারের বাবা মনজুল হক এবং ভাই মমিনুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বাবা ও ছেলেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এবিষয়ে মোবাইল ফোনে মৌচার আলী জানান, আমি কালুপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিকের পক্ষ্যে নির্বাচন না করায় তিনি কয়েকদিন ধরে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের হুমকী দিয়ে আসছেন। এরপর সেদিন সুযোগ পেয়ে আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের উপর আক্রমন চালিয়েছে। তাই আমি প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যানসহ তার লোকজনের নামে বদরগঞ্জ থানায় মামলা করেছি। কিন্তু মামলা করার পর চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের অব্যাহত হুমকীতে আমরা বর্তমানে বাড়ীঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। ওই গ্রামের সমাজসেবক আব্দুল মতিন বলেন, প্রভাবশালী মানিক চেয়ারম্যান কালুপাড়া ইউনিয়নের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে এবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু মৌচার আলীর পরিবারের সদস্যদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে না পেরে সহজসরল ওই পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছেন। আমরা গ্রামবাসী এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় চেয়াম্যান আমাদের নামে একটি মিথ্যা মামলা করেছেন। তাই পুলিশের গ্রেফতার আতংকে আমরা সবাই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমরা ইউনিয়নবাসী চেয়ারম্যানের কাছে এধরনের আচরণ কখনো আশা করিনি। বদরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম বলেন, মামলাটি তদন্তাধিন রয়েছে। তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।