।। রিতা রায় মিতু ।। ট্রলারে যে মা আর মেয়েকে গণধর্ষণ করা হয়েছে, সেই মা মেয়ের উচিত কারো কাছে বিচার না চেয়ে গণধর্ষকদের পা ছুঁইয়ে প্রণাম করা, এই হিজাব ছাড়া , বেপর্দা হিন্দু মা মেয়ের ধর্ষকরা মা-মেয়ের দেহে হাত দিয়েছে শুধু, প্রাণে কিন্তু হাত দেয়নি।
‘তনু’র কথা মনে করে দেখো, তনু ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতো, বেপর্দা নয় হিজাব পরতো, তবুও তনু রক্ষা পায়নি ধর্ষকের হাত থেকে। ওরা তনুর দেহেও হাত দিয়েছে, প্রাণেও হাত দিয়েছে। তনু’র মা বিচার চাইলে কি হবে, বিচার করবে কে? কার বিচারই বা করবে?
প্রথম পোস্টমর্টেম মনোমত হয়নি, শুরু হলো দ্বিতীয় পোস্টমর্টেম। দুই দিন পরেই ডাঃ কামদা প্রসাদ একাত্তর টিভিতে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, হত্যার হুমকী সহ চিঠি এসেছে তার কাছে। তখনই বুঝা গেছে, দ্বিতীয় পোস্টমর্টেম রিপোর্ট কি আসবে!! তার উপর চলছে কামদা প্রসাদের ভাইদের একটার পর একটা কল্লা ফালানোর উৎসব। কামদা প্রসাদের কাছে পোস্টমর্টেম রিপোর্টের চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ ঘাড়ে থাকা মাথা।
বিচার তো হবেইনা, উলটো তনুর কোথায় ধর্ষণের চিহ্ন পাওয়া গেছে, কোথায় পুরুষের শৌর্য্য বীর্য্যের দাগ পাওয়া গেছে, মরার পরেও তনুকে কতভাবে ধর্ষণ করা হচ্ছে, ছিঃ
লজ্জা পুরুষের ভূষণ নয়, লজ্জা পশুরও ভূষণ নয়।
পশু যেমনি যৌনকর্ম করার জন্য আড়াল খোঁজে না, পুরুষও আজকাল যৌনকর্ম করতে আড়াল খোঁজে না। নারী দেখলেই হলো, দিনে দুপুরে পথে ঘাটে, ঝোপে, ট্রলারে নগ্ন হয়ে যায়, একাকি হলেই কি আর দলবেঁধে হলেই কি, নগ্ন হয়ে নারী মাংসের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে তর সয় না। একজন আরেকজনের চোখের সামনে কি করে যৌনকর্মে লিপ্ত হয়, পশুরাও তো আড়াল খোঁজে, ‘পশুনি’ দেখলেই দলবল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েনা।
( যে পুরুষ অন্তর থেকে বিশ্বাস করেন যে আপনি খুব ভাল, নারীকে নারী হিসেবে নয় ‘মানুষ’ হিসেবে মানেন, এই লেখাটা তাদের জন্য নয়।)