• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

স্থাপনের মাত্র ৬মাস: বিরল পৌরসভার সিসি ক্যামেরা বিকল

সিসি ক্যামেরামাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর : দিনাজপুরের বিরল পৌরসভার নাগরিকদের জান ও মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে জনগুরুত্বপুর্ণ বিভিন্ন স্থানে ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩২ টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ডিজিটাল সিকিউরিটি ওয়ার্ল্ড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজটি করে। সিসি ক্যামেরাগুলো স্থাপনের মাত্র ৬ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই ১৭ টি ক্যামেরা বিকল হয়ে পড়েছে। সিসি ক্যামেরাগুলির মনিটরিং করছে বিরল থানা পুলিশ।
বিরল থানা সুত্রে জানা গেছে, বিরল থানায় ২ টি, হাসপাতালে ১ টি, শংকরপুর মোড়ে ৩ টি, বকুলতলা মোড়ে ৩ টি, কাচারী বাজার মোড়ে ৩টি, উপজেলা পরিষদ চত্বর, সুইপার কলোনী, ডাকঘর, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, বিআরডিবি অফিসসহ মোট ১৭ টি ক্যামেরা গত প্রায় ২ মাস যাবৎ বিকল হয়ে পড়েছে।
বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাপস চন্দ্র পন্ডিত জানান, পৌর নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। কিন্তু স্থাপিত সিসি ক্যামেরাগুলি নিম্নমানের হওয়ায় ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও চিত্র দেখে অপরাধীকে সনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে ১৭ টি ক্যামেরা বিকল হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।
বিরল পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, চলতি অর্থ বছরের কোটেশন নং-১, তারিখ-২৬-১১-২০১৫ এর মাধ্যমে ডিজিটাল সিক্রটি ওয়ার্ল্ড, ডি-১২/এ, নিউ সুপার মার্কেট, বায়তুল মোকারম, ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোঃ ওয়ালিয়ার রহমান খান এ কাজটি সম্পাদন করেন। গত ১৪-০১-২০১৬ তারিখে চুড়ান্ত বিল ঠিকাদারকে প্রদান করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতা ও পৌর নাগরিকদের কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, সরকার পৌর শহরে জনগুরুত্বপুর্ণ স্থান অপরাধমুক্ত রাখতে উপজেলা পরিষদ, থানা, ব্যাংকসহ শহরের গুরুত্বপুর্ণ স্থানগুলোতে ৩২ টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে। এতে সরকারের ব্যয় হয় ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু সরকার যে উদ্দেশ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে তা নিম্নমানের হওয়ায় ক্যামেরা স্থাপনের উদ্দ্যেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত এলাকা থেকে দেড় দু’মাসের ব্যবধানে ৬ টি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ অস্পষ্ট হওয়ায় এখন পর্যন্ত কোন অপরাধীকে সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ক্যামেরাগুলি পরিবর্তন করে উন্নতমানের ক্যামেরা স্থাপনের দাবি করেছেন পৌরবাসি।
মোটরসাইকেল চুরি হওয়ার স্থানগুলো হলোঃ উপজেলা পরিষদ চত্বর হতে ২ টি, সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে ২ টি, রূপালী ব্যাংকের সামনে থেকে ১ টি এবং শংকরপুর মোড় হতে ১ টিসহ মোট ৬ টি মোটরসাইকেল সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরে চুরি হয়েছে। প্রতিটি মোটর সাইকেল চুরির দৃশ্য ক্যামেরা ধারন রয়েছে। মোটর সাইকেল চুরির অস্পষ্ট ফুটেজ দেখে পুলিশ এখন পর্যন্ত অপরাধীকে সনাক্ত করতে পারেনি। ভুক্তভোগিরা নিম্নমানের সিসি ক্যামেরা পরিবর্তন করে উন্নতমানের ক্যামেরা স্থাপনের দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল খায়রুম ১৭ টি সিসি ক্যামেরা বিকল হওয়ার বিষয়টি থানার অফিসার ইনচার্জের নিকট থেকে শুনেছেন বলে জানান। ২ মাস যাবৎ ১৭ টি সিসি ক্যামেরা বিকল থাকলেও ঠিকাদারের ব্যাপারে কি ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। ওই ঠিকাদার ক্যামেরাগুলি এক বছর পর্যন্ত দেখভাল করবেন। কোন সমস্যা দেখা দিলে তিনি (ঠিকাদার) মেরামত করে চালুর ব্যবস্থা করবেন বলে জানান নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল খায়রুম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ