আজমল হক আদিল, বদরগঞ্জ (রংপুর) : বদরগঞ্জ পৌর শহরের শাহাপাড়া মহল্লায় বসবাস করেন দিলিপ কুন্ডু নামে একজন মুদিব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার (১৬জুন) বিকেল ৪টায় তার স্ত্রী মুক্তি রানী (২৪) প্রসব বেদনা ছটফট করতে থাকলে তার স্বামী তাকে দ্রুত নিয়ে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে যাওয়ার আধা ঘন্টা পর মুক্তি রানী একটি ফুটফুটে কন্যা শিশু প্রসব করেন। এসময় বাচ্ছা প্রসবের পর অদক্ষ নার্স ও আয়া প্রসুতি মায়ের পেট থেকে নারভুড়ি ও জরায়ু টেনে বের করে আনেন। কিছুক্ষন পর প্রসুতি মায়ের অবস্থা আশংকা জনক হলে তাকে রেফার্ড করা হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু মুক্তির রানীর স্বামী দিলিপ কুন্ডু স্ত্রীকে রমেক হাসপাতালে না নিয়ে রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোর রাতে মুক্তি রানী মারা যায়। এদিকে নার্স, আয়া এবং তার পাষন্ড স্বামীর অবহেলায় মুক্তি রানী প্রাণ হারালে সচেতন মহলে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এবিষয়ে ওই ঘটনার সময় বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা হ্যাপী পারভীন (৩৫) নামে একজন মহিলা রোগী জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত নার্স মেরিনা ও আয়া জাহানারা বেগম বাচ্ছা প্রসবের পর রোগীর পেট থেকে নারভুড়ি ও জরায়ু টেনে হিচড়ে বের করে। কিন্তু এই সমস্যার সমাধান দিতে না পেরে রোগীর বাঁচার সব সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়। যাদের অবহেলায় এমন একটি তাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেল। আমরা তাদের কঠিন শস্তির দাবী জানাই। এরপর নিহত মুক্তিরানীর দেবর লক্ষন কুন্ডুর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স মেরিনা বেগম আমাদের মুমুর্ষ রোগীকে প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নামক একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করতে পরামর্শ দিয়েছিল। সেখানে নেওয়ার পর ভোর রাতে রোগী মারা গেছে। তবে মুক্তিরানীর বাবা নরেশ পালের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এসময় শাহাপাড়া মহল্লাবাসী জানান, নিহত মুক্তিরানীর একটি সাত বছরের পুত্র সন্তান আছে। মায়ের মৃত্যুতে বেছাড়া পাগল হয়ে গেছে। এছাড়াও মায়ের মৃত্যুতে ভাগ্যগুনে বেঁচে যাওয়া নবজাতিকা খুব কষ্ট আছে। অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মনোয়ার বেগম বলেন, আমি জেলার বাইরে একটি বিশেষ কাজে ব্যস্ত ছিলাম। মোবাইল ফোনে ঘটনাটি শুনেছি। বাচ্ছা প্রসবের পর রোগীর শারীরিক অবস্থা মোটেও ভাল ছিলনা তাই কর্তব্যরত ডাক্তার উম্মে হাবীবা লাবনী রোগীকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু রোগীর পরিবারের সদস্যরা রোগীকে রমেক হাসপাতালে না নিয়ে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে তার প্রাণহানী ঘটিয়েছে। এখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও নার্সদের আমি কোন ত্র“টি দেখছিনা। বদরগঞ্জ থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, লোক মুখে ঘটনাটি শুনেছি। এবিষয়ে কেহ থানায় অভিযোগ করেনি।