মাহমুদ জামান শোভন: প্রশ্ন উঠতেই পারে, বাবা কে ভালোবাসার জন্যে কী শুধুই একটি দিন? বাবার প্রতি সন্তানের চিরন্তন ভালোবাসার প্রকাশ তো প্রতিদিনই ঘটে। প্রশ্ন উঠুক, তবু পৃথিবীর মানুষ বছরের একটা দিন বাবার জন্য রেখে দিতে চায়, যেমনটা রাখা হয় মায়ের জন্য। তাই আজ বাবা দিবস, শুধু বাবার জন্য একটি বিশেষ দিন।
‘বাবা দিবস’ পালন শুরু হয় গত শতাব্দীর শুরুর দিকে। উদ্দেশ্য একটাই- পৃথিবীর সব বাবাদের প্রতি সন্তানদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশ। ধারণা করা হয়, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই সর্বপ্রথম ‘বাবা দিবস’ পালিত হয় আমেরিকার পশ্চিম ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায়।
বিশ্বের প্রায় ৫২টি দেশে এ দিবসটি পালিত হয়। পিতার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রকাশের জন্য দিনটি বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয়ে থাকে। প্রতি বছর জুনের তৃতীয় রবিবার পালিত হয় ‘বাবা দিবস’। এই ধারাবাহিকতায় এবছর ১৯ জুন দিবসটি পালিত হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাবাকে ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকা হলেও ভালোবাসার আবেদনে নেই একটুও ভিন্নতা। জার্মান ভাষায় বাবা শব্দটি হচ্ছে ‘ফ্যাট্যা’ আর ড্যানিশ ভাষায় ‘ফার’। আফ্রিকান ভাষায় ‘ভাদের’ বলা হয় বাবাকে। চীনারা বাবাকে ডাকেন ‘বা’ বলে। কানাডিয়ান ভাষায় বাবা হচ্ছেন ‘পাপা’ আর ক্রোয়েশিয়ান ভাষায় ‘ওটেক’। পর্তুগিজ ভাষায় বাবা ডাক হচ্ছে ‘পাই’। ডাচ ভাষায় পাপা, ভাডের আর পাপাই এই তিনটি হচ্ছে বাবা ডাক। সবচাইতে বেশী প্রতিশব্দ ইংরেজি ভাষাতে। ইংরেজরা বাবাকে ফাদার, ড্যাড, ড্যাডি, পাপা বলে ডাকেন। ফিলিপিনো ভাষাও কম যায় না, এই ভাষায় বাবা হচ্ছেন তাতেই, ইতেই, তেয় আর আমা। হিব্রু ভাষায় বাবা হচ্ছে ‘আব্বাহ্’। হিন্দি ভাষার বাবা ডাকটি হলো ‘পিতাজী’। আবার ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় ‘বাপা’ কিংবা ‘আইয়্যাহ’। জাপানিরা তাদের ভাষায় বাবাকে ডাকেন ওতোসান, পাপা। পুর্ব আফ্রিকায় অবশ্য বাবাকে ‘বাবা’ বলেই ডাকা হয়। হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় ‘পাপা’ ছাড়াও বাবা শব্দের অনেকগুলো প্রতিশব্দ আছে, যেমন- আপা, আপু, এদেসাপা।
অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার পালিত হয় ‘বাবা দিবস’। এ দিনকে ঘিরে সন্তানরা বাবার জন্য করেন নানা আয়োজন। নতুন প্রজন্মের কাছে মা দিবস-বাবা দিবসের ধারণাগুলো দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। হাজার কষ্ট সয়ে তিলে তিলে যে সন্তানকে বড় করেছেন একজন বাবা, তাকে ঘিরেই এদিন হয় ব্যতিক্রমী উৎসব। সন্তানের কাছে বাবা বন্ধুর মতো। কারও বাবা পথপ্রদর্শক। এদিন অনেকেই বাবাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। অনেক দেশে কার্ডও উপহার দেয়া হয়। যাদের বাবা বেঁচে নেই, তারা হয়তো আকাশে তাকিয়ে অলক্ষ্যে বাবার স্মৃতি হাতড়ায়।
এদিকে, বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকও বিশেষ বার্তা যোগ করেছে। বাবা দিবসের প্রচলন বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই। ১৯১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পিতৃদিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণার বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়৷
সব মিলিয়ে ‘বাবা দিবস’ উদযাপন এখন বেশ প্রচলিত। সবাই এদিনটিতে চান বাবাকে না বলা অনেক কথা বলতে, বাবার প্রতি নিজের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশ করতে। এদিন বাবাকে জানিয়ে দিতে চান- ভালোবাসি বাবা!