রংপুর: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা হয়েছে। এর আগে তাঁদের সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছিল।
গতকাল রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এই তিনজনকে অপসারণের মধ্য দিয়ে উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত কোনো প্রতিনিধি রইল না। অপসারিত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের আমীর গোলাম রব্বানী, ভাইস চেয়ারম্যান ও মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতের সদস্য আবদুল বাছেদ মারজান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের সদস্য মোরশেদা বেগম। এঁদের মধ্যে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান বর্তমানে কারাগারে। আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জামিনে রয়েছেন। ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাঁরা নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মিঠাপুকুর থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের দিন পুরো উপজেলায় এই তিন নেতার নেতৃত্বে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা তাণ্ডব চালান। ২০১৪ সালের ১৩ জানুয়ারি রাতে উপজেলার বাতাসন ফতেপুর এলাকায় কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে মারা হয়। এতে পাঁচজন যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন অনেকে। এসব ঘটনাসহ নাশকতার আরও কিছু অভিযোগে তাঁদের তিনজনের বিরুদ্ধে মিঠাপুকুর থানায় একাধিক মামলা হয়। এর মধ্যে বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে মেরে হতাহতের ঘটনায় মামলার অভিযোগপত্র গত বছর ১৭ মে আদালতে দাখিল হয়েছে। সেই মামলায় এই তিনজনই অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি।
ইউএনও জানান, এর আগে গত বছর ২৩ নভেম্বর তাঁদের তিনজনকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এরপর গত ৬ জুন তাঁদের চূড়ান্তভাবে অপসারণ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
ইউএনও আরও বলেন, ‘গত বছর ২৯ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক চিঠির মাধ্যমে মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব আমার ওপর অর্পণ করা হয়েছে। ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন সরকার। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচিত চেয়ারম্যানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় জাকির হোসেন সরকারই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে তাঁকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’