বিশেষ প্রতিনিধি: অবশেষে বদলী করা হলো দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বিতর্কিত সেই শিক্ষা কর্মকর্তা কাজল কুমার সরকারকে। গত ১৬ জুন বিরামপুর পৌর শহরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়াকে শ্লীলতাহারি অভিযোগে তিন হাজার টাকা জরিমানা এবং সাত দিনের মধ্যে অন্যত্র চলে যাওয়ার মুচলেকা দিয়েছিলেন কাজল কুমার সরকার।
দিনাজপুর এবং বিরামপুর শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৬ জুনের ঘটনা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর কাজল কুমারকে গত সোমবার রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় বদলী করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষা কর্যালয়ের কর্মরত কয়েকজন ব্যক্তির অভিযোগ, কিছুদিন আগে খানপুর ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্বামী না থাকার সুযোগে ওই শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানি করার চেষ্টা করে লাঞ্চিত হয়ে চলে আসেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা। এছাড়াও শিক্ষিকারা কোন সমস্যায় পড়লে সুযোগ বুঝে অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দিতেন ওই কর্মকর্তা।
বিদ্যালয়ের সংষ্কার কাজের বরাদ্দ ছাড়, শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট, টাইমস্কেল, বদলী, পদায়নসহ বিভিন্ন কাজে সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) আব্দুস সালাম এবং শিক্ষা কর্মকর্তা কাজল কুমার সরকার ঘুস ছাড়া কোন কাজ করতেন না। সম্প্রতি এক শিক্ষকাকে বদলীর বিষয়ে এটিও আব্দুস সালামের ঘুষ দাবীর কথোপোকথ একটি গনমাধ্যমে প্রকাশিত হলে পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চ তদন্ত করে। শিক্ষক সমাজের দাবী কাজল কুমার সরকারের মতো দ্রুত এটিও আব্দুস সলামের বদলী করা হলে বিরামপুর শিক্ষা অফিস দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি পাবে।
বিরামপুরে সাবেক ইউপি সদস্য গ্রেফতার
দিনাজপুরে বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যসহ ৫ জনকে কুপিয়ে ও পিস্তলের গুলিতে আহত করার মামলায় সাবেক ইউপি সদস্য আফিজ উদ্দিনকে (৬০) কে গ্রেফতার করেছে বিরামপুর থানা পুলিশ।বুধবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে তার নিজ বাড়ী থেকে তাকে আটক করা হয়।
মামলা সুত্রে জানাযায়, ২য় দফার ইউপি নির্বাচনে কাটলা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে সাবেক সদস্য আফিজ উদ্দিনকে পরাজিত করে মইনুল ইসলাম বিজয়ী হন। ভোটের পরাজয়কে মেনে নিতে না পেরে গত রবিবার দুপুরে আফিজ উদ্দিন ও তার ছেলে মোস্তফা কামাল সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মইনুলের পরিবারের উপর হামলা চালায়। এতে মইনুলসহ ৪ জনকে কুপিয়ে ও এক নারীকে পিস্তলের গুলিতে আহত করে। এঘটনায় ২১জুন মঙ্গলবার ১১জনকে আসামী করে মইনুল থানায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক শাহ আলম জানান, অন্য আসামিদের কেউ গ্রেফতারের অভিযান অব্যহত রয়েছে।