সিসি ডেস্ক: গণভোটে ব্রিটেনের জনগণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার রায় দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। আজ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় তার পাশে ছিলেন স্ত্রী সামান্থা।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের নতুন নির্দেশনার আলোকে দেশকে এগিয়ে নিতে পরিচালকের ভূমিকা পালন করা তার জন্য সঙ্গত নয়।
এ সময় ধরা গলায় ক্যামেরন বলেন, আমি এই দেশকে ভালোবাসি এবং এ জন্য যা কিছু করণীয় তার সব কিছুই আমি করব। ইইউ ছাড়ার পক্ষে গণভোটে রায় আসার ব্যাপারে তিনি বলেন, ব্রিটিশ জনগণের ইচ্ছা এমন এক নির্দেশ, যা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
ক্যামেরন জানান, আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কনজারভেটিভ পার্টির কনফারেন্সে দলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। এ সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
তিনি বলেন, আমাদের এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে পুনরায় সমঝোতা করার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এর জন্য দৃঢ়স্বংকল্প ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ নেতৃত্ব প্রয়োজন।
ক্যামেরনের ঘোষণার আগে অবশ্য ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হেমন্ড বলেছিলেন, ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে গণভোটে রায় এলেও ডেভিড ক্যামেরনই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন।
বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে থাকা না থাকা নিয়ে গ্রেট ব্রিটেনজুড়ে এ গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ গণভোটের ফলাফলে ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট দেয় ৫২ শতাংশ নাগরিক, ইইউতে থাকার পক্ষে ভোট দেয় ৪৮ শতাংশ মানুষ।
এদিকে ইউউকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দেয়ার পর নাটকীয়ভাবে পড়ে গেছে ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ড স্টার্লিংয়ের মান। শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত খবরে পাউন্ডের মান ১০ শতাংশ কমে গেছে। ১৯৮৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত কখনও এতো নিচে নামেনি পাউন্ডের দাম।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার আগে ডেভিড ক্যামেরন ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি নির্বাচিত হতে পারলে ইইউতে থাকা প্রশ্নে গণভোট করবেন।
যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় জোট থেকে বের করে আনার লক্ষ্যে কিছু ডানপন্থি রাজনীতিবিদের উদ্যোগে ১৯৯১ সালে গঠিত হয় ইউকে ইনডিপেনডেন্স পার্টি। ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সময়ে এই দল বেশ পরিচিতিও পায়। ২০১৩ সালে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বে দলটি স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে সাফল্য পায় এবং প্রতিনিধিত্বের বিচারে যুক্তরাজ্যের চতুর্থ শক্তিশালী দলে পরিণত হয়।
ইনডিপেনডেন্স পার্টির এই উত্থান কনজারভেটিভ পার্টির জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। কনজারভেটিভ সমর্থকদের অনেকেই ইনডিপেনডেন্স পার্টির দিকে ঝুঁকে পড়েন। এমনকি একজন এমপিও এক পর্যায়ে দল বদলে ইনডিপেনডেন্স পার্টিতে যোগ দেন।
এরপর ইনডিপেনডেন্স পার্টির ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী প্রচার আরও জোর পায়। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও কনজারভেটিভদের প্রতি সমর্থনের ঘাটতি দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে অনেকটা চাপের মুখেই ইইউ প্রশ্নে গণভোটের প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হন কনজারভেটিভ নেতা ডেভিড ক্যামেরন।