এম আর মহসিন: সৈয়দপুর শহরে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। ফুটপাতের দোকান হতে ছোট-বড় শপিং মলগুলোতে লেগেছে ভীষন ভীড়। যেন পা ফেলার জায়গা নেই। এর ওপর চলাচলের সড়ক দখল করে সামনে দোকান বাড়িয়েছে ব্যাবসাযিরা। এর ভেতরেই চলছে অবৈধ্য যান ও মালামাল বাহি ট্রাকটর, ট্রলি, ট্রাক ও রিক্সা । যেন তিল ধারনের ঠাই নেই এ বাজারে। এর মধ্য দিয়েই সীমাহীন দুর্ভোগ নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তবে দুর্ভোগ লাঘবে সৈয়দপুর পৌর পরিষদ প্রতিদিন মাইকিং করে যানজট নিরসনে এসকল বাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও নজর দিচ্ছে না পরিবহন মালিকসহ সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ।
জানা যায়, সৈয়দপুর শহরে স্যান্ডেল হতে সু এবং রেডিমেড কাপড়ের প্রায় তিন শতাধিক খুচরা ওপাইকারি গার্মেন্টস এর বিপনি বিতান গুলো শহীদ ডাঃ সামশুল হক ও শেরেবাংলা রোড ও শহীদ ডাঃ জিকরুল রোডে অবস্থিত। এর মধ্যে শহীদ ডাঃ জিকরুল হক সড়কে লাইব্রেরি,ব্যাংক,বিমা,কোচ কাউন্টার, হোটেল,রেস্তেরা,প্রেস ক্লাবসহ আবাসিক এলাকা রয়েছে এ সড়কে। তাই ক্রেতাদের এ সড়কে তেমন একটা প্রয়োজন পড়েনা।
তবে এ শহরটির মুল প্রান কেন্দ্র হচ্ছে মদীনা মোড়। এ মোড় হয়েই উত্তরের সকল যানবাহন রংপুর হয়ে উত্তর ও দক্ষিন বঙ্গের যে কোন শহরে প্রবেশ করে।
এদিকে, ঈদের কেনা কাটায় ক্রেতা সাধারনের ভীড় প্রতিদিন বাড়ায় তাদের সুবিধার্থে সকাল আটটা হতে রাত আটটা পর্যন্ত ভারি কোন যান বাহন চলাচল করতে পারবেনা বলে সৈয়দপুর পেুৗর পরিষদ প্রতিদিন মাইকিং করে ঘোষনা করছেন। এতে ভারি যানসহ অবৈধ অটো রিক্সা দাপটে চলাচল করছে। এমনকি ঈদের এ ব্যাস্ত এলাকায় চলছে শ্যালো,বালু বাহি ট্রাক্টর,পিকআপ এমনকি মালামাল ভর্তি ট্রাক অবাধে ঢুকে আনলোড করছে। এতে যানজট তীব্র আকার ধারন করেছে।
শহীদ ডাঃ শামসুল হক রোড এবং শেরেবাংলা রোডটিই হচ্ছে ঈদের বাজারে কেনাকাটার স্থান। এ দুটি সড়ক বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় নির্মান করা হয়। করা হয় ২৮ ও ২৫ ফুট প্রশস্ত। তারপরেও শহীদ ডাঃ শামসুল হক সড়কটি এখন ১০ ফুট প্রশস্তে পরিণত হয়েছে। দুই ধারের গার্মেন্টস দোকানিরা ঊভয় ধারে প্রায় ১০থেকে ১৫ ফুট সড়ক দখল কওে বাড়িয়েঝে তাদের দোকান। এতে পথচারিসহ ক্রেতারা পরিবার নিয়ে ঈদের কেনা কাটায় এ বাজারে চলাচল করতে চড়ম দুর্ভোগে পড়েছে। এনিয়ে দোকানিদের সাথে ঝগড়াও হচ্ছে। তবে প্রতিকার মিলছেনা। ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মাসুম(২৫)নামে যুবক বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে বিশ্বব্যাংক পথচারিদের সুবিধার্থে সড়ক প্রশস্ত করলেও একই দুর্দশা ভোগ করতে হচ্ছে আমাদের। দিনদিন যেন এ বাজারের সড়ক গুলো সংকির্ণ হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে প্রায় সকল পথচারি একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এনিয়ে অটো চালক সুবোধ জানান, পৌর কতৃপক্ষ ঘোষনা করলেও আমরা মানছি তবে কিভাবে ট্রাকসহ অন্যন্য গাড়ি গুলো ঢুকছে। ট্রাফিক আঃ সালাম জানান, আমরা কোন ভাবেই ভারি যান ঢুকতে দিচ্ছি না। তবে ২টার পর ফাকা হলে সে সময় কিছুটা শিথিল করছি। তবে সবে মাত্র বদলি হয়ে আসা এ শহরে ট্রাফিক ইন্সপেকটর যানজট নিরসনে কিছুটা সময় লাগবে জানান তিনি।
বাজারের সড়ক একাধিক বার দখল মুক্ত করতে অভিযান চালালেও ব্যাবসায়িরা আবার তাদের দোকানের সামনের সড়কটি দখল করেন। আর এ দখলমুক্ত করাটি পৌরসভার সাথে ব্যাবসায়িরা ইদুর-বেড়াল খেলা করছেন বলে এ শহরের সচেতন মহল অভিযোগ করেন। সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম বলেন,বাজারের সড়কগুলো দখর মুক্ত করতে প্রতিদিন যদি উপজেলা নির্বাহি অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান কিংবা পৌরমেয়র সরারাচর চলাচল করতো তাহলে ব্যাবসায়িরা চলাচলের পথে পসরা বসাতে পারত না। সৈয়দপুর ওয়াকার্স পাটির সাধারন সম্পাদক আলম মাষ্টার বলেন, সড়ক দখল মুক্ত করতে শুধু পৌরসভা নয় ব্যাবসায়িসহ স্থানিয় রাজনিতিকদের এক কাতারে কাজ করতে হবে। এ নিয়ে সৈয়দপুর পৌর মেয়র মোঃ আমজাদ হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ক্রেতারা যাতে সুন্দও ভাবে কেনাকাটা করে নিবিঘ্নে ঘরে ফিরতে পারে এ জন্য প্রতিদিন মাইকিং করা হচ্ছে। এরপরেও যদি তারা না মানেন তাহলে অবশ্যই অভিযান চালিয়ে সড়ক দখল মুক্তসহ অবৈধ্য যানগুলোকে ধরে যতাযথ বাবস্তা করা হবে। তবে যানজট নিরসনে স্থানিয় প্রশাসনসহ সকলের সহায়তা চান এ পৌর অভিভাবক।