মোঃ হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) : ধনী-গরীব নির্বিশেষে ঈদের আনন্দ সবার হওয়ার কথা। কিন্তু সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে যাদের আনন্দ থেকে যায় দৃষ্টির আড়ালেই। ঈদ উৎসবে যাদের নতুন পোশাক তো দূরের কথা, দু’বেলা ভাতও জোটে না।
এমনই একটি গোষ্ঠী বাধেঁ উপরে বসবাস ভাসমান নদী ভাঙ্গনের শিকার মানুষজনের। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার অবদা বাধঁ ও কেচি সড়কের দু’পাশে বসতি স্থাপন করে বসবাস করছে এই ভাসমান মানুষেরা। সরজমিন দেখা গেছে শিক্ষার আলোর মতো ঈদ আনন্দও পৌঁছেনি এ গৃহহারা সড়কের উপরের মানুষজনের কাছে। খোলা আকাশের নিচে মাথার উপর ছেঁড়া পলিথিন, ছন বা দু’চারটা টিন দিয়ে চারদিকে কাপড় বা খড়ের বেরা দিয়ে কোন মতে ছাপরা দিয়ে তাদের জীবন যাপন। অথ্যাৎ তাঁবুর বাসস্থানের মতোই তাদের জীবনের আনন্দ। কখন জানি এখান থেকে উঠে যেতে হয়। ঈদের দিনেও সন্তানের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দিতে কাটাতে হয় ব্যস্ত এ সব মানুষকে। একজনের আয়ে আহারের ব্যবস্থা হয়না বলে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও নদী থেকে খড়কুটা কুড়িয়ে বিক্রি, অন্যের বাড়িতে গৃহস্থলি কাছসহ বিভিন্ন কাজ করতে হয় তাদের। সেখানে নতুন পোশাকের স্বপ্ন তো সোনার হরিণ। ঈদ প্রসঙ্গে কথা হয় অবদা বাধেঁ বসবাসরত শিশু রিদয় (১০), সুমন (৯), সুমি (৮)সহ অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদ বলে তাদের কোন বিশেষ দিন নেই। ঈদে তাদের দেয়া হয় না নতুন কোন জামা কাপড়। এমনকি ঈদের দিন তাদের এই ছোট্ট ঘরে হবে না পোলাও মাংস রান্না। রমনা ঘাট সড়কের উপর বসতি স্থাপন করা ৫৫ বছর বয়সী রহিমা বলেন বারবার নদী ভাঙ্গনের ফলে জন্মের পর থেকেই বাধঁ বা সড়কের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাযাবরের জীবনযাপন করছি। এক সময় শরীরে শক্তি ছিল, কাজ করতে ভালো লাগতো। আর এখন কাজ করি শুধু পেট বাঁচানোর জন্য। এখন আর ঈদ বলে আলাদা কিছু নেই। সাবেক সংসদ (কুড়িগ্রাম ৪) মোঃ গোলাম হাবিব দুলাল বলেন, সরকার নদী ভাঙ্গনে সর্বহারা মানুষজনের জন্য যদি থাকার একটি নির্দিষ্ট জায়গা করে দিতো তাহলে হয়তো কোন এক সময়ে এ কষ্টের জীবনের অবসান ঘটতো। পুটিমারি, রাজারভিটা অবদা বাঁধের উপর বসবাস পরিবার গুলো ভয়াবহ কষ্টময় জীবনযাপনসহ চরম নিরাপত্তা হীনতায় মধ্যে দিনাতিপাত করছে। উপজেলার রমনা চিলমারী রাস্তা পাশ্বের উন্মুক্ত স্থান, ও বিভিন্ন জনবহুল এলাকার আশপাশে হাজারো পরিবার বাঁশ পলিথিন, খড়, কাপড়ের বেরা ও পুরাতন বস্তার সাহায্যে বসবাস করার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ছোট ছোট ঘর তৈরি করে কষ্টময় জীবনযাপন করে। এসব পরিবারের পুরুষরা মাছ ধরা, ভিক্ষাবিত্তি, শ্রমবিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এই পরিবারের যুবতীরা এ পরিবেশে চরম নিরাপত্তা হীনতায় জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। কোন দুর্ঘটনা ঘটলে চুপ হয়ে থাকতে হয় ওদের। এই অভাবি ভুকানাঙ্গা মানুষজন এভাবে প্রতিদিন নীরব যন্ত্রনার শিকার হয়ে অতিক্রম করতে হয় জীবনের শেষ অধ্যায় পর্যন্ত। সমাজে এসব পরিবারের মানুষ যাদের ঈদ আনন্দ থেকে যায় দৃষ্টির আড়ালেই। ঈদ উৎসবে তাদের নতুন পোশাক তো দূরের কথা, দু’বেলা দু’মুঠো ভাতও জোটে না। সেমাই আর পোলাউ মাংস জুটবে কি করে?