সিসি নিউজ : গুলশানের হলি আর্টিসানে সন্ত্রাসী হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা টিভি চ্যানেলে সরাররি সস্প্রচারের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আরো দায়িত্বশীল হতে বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি এধরনের সংবাদ প্রকাশে মালিক পক্ষ ও টেলিভিশন পরিচালনাকারীদের সতর্ক হওয়া অনুরোধ জানিয়েছেন। শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের মহাসড়ক উদ্বোধনের সময় দেওয়া ভাষণে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ ও অনুবোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, অভিযানের স্বার্থে ওই এলাকায় ক্যাবল লাইন, ইন্টারনেট, ভাইবারসহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। টেলিভিশনগুলোকে রিকোয়েস্ট করা হয় সরাসারি সস্প্রচার না করার জন্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টেলিভিশনগুলো সরাসরি সম্প্রচার করছিল। এমনকি র্যাবের পোশাক পরার দৃশ্য থেকে শুরু করে র্যাব-পুলিশ কীভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবে, সেটিও দেখানো হচ্ছিল।’
এসব সংবাদ পরিবেশন ঠিক না উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে বলেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সেও সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। অথচ সেসব হামলায় নিহতদের ছবি কিংবা কোনো রক্তাক্ত ছবি দেখানো হয়নি। অথচ আমাদের দেশে মিডিয়াগুলোতে কার আগে কে রক্তাক্ত ছবি প্রকাশ করবে, সেটির প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।’
‘কিন্তু টেলিভিশনগুলো এটা দেখায় তারা এটা চিন্তা করে না ভিতরে সন্ত্রাসী যারা আছে, যারা জিম্মি করে রেখেছে তারাও এটা দেখছে। এই দেখার মধ্য দিয়ে তারা সাথে সাথে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নিয়ে নেবে। কাজেই কোনই প্রিপারেশন নেওয়া যাচ্ছে না, সবই টেলিভিশনে এসে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা আমরা দেখেছি বিজিবির অপারেশনের সময়। কাজেই টেলিভিশনের যারা মালিক এবং টেলিলিশন যারা পরিচালনা করেন তাদের এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে অনুরোধ করবো।’
সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেন আমেরিকায় প্রায় ৩০ জন মানুষকে মেরে ফেলে। একটা লাশের ছবিও কিন্তু তারা (সিএনএন) দেখায় নি। সেখোনেও এইভাবে আক্রমণ করল, মেরে ফেললো। কিন্তু আমাদের দেশে কি হয়? এটার একটা প্রভাব ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে একটা সুস্থ মানুষের উপর কিভাবে পড়তে পারে সেই চিন্তাটা করা উচিত।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, অভিযানের জন্য সেনাবাহিনী আনা হয়, সিলেট থেকে ব্যাটেলিয়ান, সাভার থেকে কামান্ডো নিয়ে আসা হয়, পুলিশ র্যাব, বিজিবি প্রস্তুত থাকে। এভাবে রাত চারটা বাজে। ওখানেই বসে অপারেশনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘এটাই সুখের কথা যে দশ ঘন্টাও লাগেনি, তার আগেই আমরা জিম্মিদের উদ্ধারে আক্রমন চালাতে সক্ষম হই। যারা জিম্মি ছিলো আমরা ১৩ জনকে বাঁচাতে পেরেছি। বাকি কয়েকজন বাঁচাতে পারিনি। কয়েকজন আহত অবস্থায় সিএমএইচে চিকিৎসাধীন আছে। আর যারা এই সন্ত্রাসী তাদের ছয়জনই স্পটে মারা যায়। একজন ধরা পড়েছে।’
একটা সফল অপারেশন হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু টেলিশিভন তো শুনতেই চায় না। আমি প্রত্যেকটা নজরে রেখেছি, কারা কারা শুনতে চায়নি সেটা আমার খেয়াল আছে। এই প্রাইভেট টেলিভিশন চ্যালেন আমারই দেওয়া; আমার হাতে দেওয়া। আমি দিতেও যেমন পারি নিতেও তেমন পারি। আমার কাজে যারা বাধা দেবে, সেটা সহ্য করা হেবে না। কাজেই ভবিষ্যতে প্রত্যেককে বলবো সতর্ক হতে।’