মমিনুল ইসলাম বাবু, (কুড়িগ্রাম) : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নানান জাতের মশলা বাটা শিলপাটা কুটনি করতে ধুম পড়েছে শহর ও গ্রামাঞ্চলে। তাই সারাক্ষণ ব্যন্ত থাকতে হচ্ছে কুটনিওয়ালাকে। শহরে এর চাহিদা কিছুটা কম হলেও গ্রামাঞ্চলে রয়েছে প্রচুর চাহিদা। বাড়ীর বধুদের মাছ, মাংস, পোলাও কোরমাসহ নানা রকমের তরকারী রান্না করতে বিভিন্ন প্রজাতির মশলার প্রয়োজন হয়। তাই রাধুনীদের মশলা বাটতে প্রয়োজন শিলপাটার। আর এই শিলপাটার যদি ধার(কুটনি) না থাকে তাহলে গায়ের সম্পন্ন জোর দিয়েও মশলা বাটা যায় না। তাই বধুরা শিলপাটা কুটনি করতে এ পাড়া ওই পাড়ায় খোঁজ নিতে থাকে কবে আসবে কুটনিওয়ালা। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর দিতে থাকে কুটনিওয়ালাকে। রাজারহাট উপজেলায় একজন মাত্র শিলপাটা কুটনিওয়ালা। তাই তার কদর বাড়ে দু’টি ঈদ ও বিভিন্ন পূঁজায়। বিশেষ করে ঈদে। এই কুটরিওয়ালার বাড়ী রাজারহাট উপজেলার রাজারহাট ইউনিয়নের চান্দামারী গ্রামে। তার নাম মোঃ আলম মিয়া (৭২)। বাবা মৃত মইনুদ্দিন। তার বাবাও এই পেশায় ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর অভাবী সংসারে হাত থেকে রেহাই পেতে তিনিই এই পেশায় হাল ধরেন। শনিবার সকালে শিলপাটা কুটনি করতে করতে আলম মিয়া জানান, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি এই পেশার সাথে জড়িত। শিলপাটা কুটনির কাজে ব্যবহৃত মাত্র একটি হাতুড় ও একটি বাটাল নিয়ে পাড়া, মহল্লা ও শহরের বাড়ী বাড়ী ঘুরে শিলপাটা কুটনি করেন। একটা শিলপাটা কুটনি করে ৩০/৫০ টাকা পান। এভাবে দিনে ৩শত থেকে ৪শত টাকা রোজগার করেন। গা ঘামানোর টাকা দিয়েই তিনি পুরো সংসার পরিচালনা করে আসছেন। তার সংসারে স্ত্রী ও ৪ মেয়ে ছিল। এই কাজ করে তিনি সব মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। এখন স্ত্রী সহ দু’জনে দিন কাটাচ্ছেন। ঈদ আসলে তিনি আর বসে থাকতে পারেন না। চতুরদিকে হাকডাক শুর” হয়ে যায়। কোন দিকে যাবেন দিশা হারিয়ে ফেলেন। ব্যবসাও ভাল চলে। কিন্তু ঈদ শেষ হলে তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েন। বছরের প্রায় ৭/৮মাস ঘরে বসে থাকতে হয়। আবার কবে ঈদ আসবে এই প্রতিক্ষায়। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এই কাজ এখন চলে না বাহে। মানুষ মেশিনত মশলা বাটি নিয়ে আসে। একন শিলপাটার কদর নাই। তবুও পেটের দায়ে কুটনির কাজ করছি। বুড়ো বয়সে অন্য কাজ করতে পারছি না। তাই সারা বছর এ কাজে নিয়োজিত থাকলে সংসারে অভাব-অনটন থাকতো না।