কক্সবাজার: কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা মুচনী অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের কাছে পুলিশের সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই ডাকাতের মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ দাবি করছে, দুই ডাকাত দলের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে প্রতিপক্ষ দুই দলের দুই ডাকাত মারা গেছেন। পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করেছেন।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই লাশ দুইটি ছাড়াও দুইটি দেশে তৈরি লম্বা বন্দুক ও এলজি এবং একটি কার্তূজও উদ্ধার করে।
অন্য একটি সূত্র দাবি করেছেন, নিহত দুইজনের কেউই টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা নন। এরা দুইজনই কক্সবাজার জেলার দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপ এলাকার আলোচিত আবদুল গফুর নাগু মেম্বার হত্যা মামলার আসামি। এদের মধ্যে সরওয়ার আলম ওরফে বতইল্যা নামের একজনকে আইন শৃংখলা বাহিনী বুধবার সন্ধ্যায় আটক করেছিল বলে প্রচার রয়েছে।
সূত্রটি নিশ্চিত করেছেন, টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দুইজনের মধ্যে সরওয়ার আলম ওরফে বতইল্যার লাশও রয়েছে।
পুলিশ লাশের পরিচয় নিশ্চিত না করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাশের ছবি দেখে সরওয়ার আলম ওরফে বতইল্যার বাবা মোহাম্মদ বাহাদুর নিশ্চিত করেছেন, নিহতদের মধ্যে একজন তার ছেলে বতইল্যা ও অন্যজন তার সহযোগী মোহাম্মদ ইলিয়াছ।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মজিদ জানান, দিবাগত গভীর রাতে টেকনাফের ১৪নং ব্রীজ সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় ‘আধিপত্য বিস্তার’কে কেন্দ্র করে আব্দুল হাকিম ডাকাত দলের সাথে নুরুল হাকিম ওরফে শিয়াইল্যা ডাকাত দলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
তিনি দাবি করেন, দুইপক্ষের মধ্যে ঘন্টাব্যাপি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রতিপক্ষের গুলিতে উভয় গ্রুপের একজন করে দুই ডাকাত সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। খবর পেয়ে টেকনাফ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্র মতে, ওই এলাকার লোকজন গোলাগুলির শব্দ পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মজিদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গেলে ডাকাত দল পালিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে যায়।
টেকনাফ থানার ওসির দাবি, গোলাগুলির খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস’লে গিয়েছিল। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের উভয় গ্রুপই পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।
তার মতে, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনের লাশ দেখতে পান। ওই স্থানেই একটি লম্বা বন্দুক, একটি এলজি ও একটি কার্তূজও পাওয়া যায়।
তিনি জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল তৈরির পর ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছেন। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এই রিপোটের্র সর্বশেষ আপডেট নিতে গিয়েও নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে অন্য একটি অসমর্থিত সূত্র দাবি করেছেন, টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুইজনই কক্সবাজার জেলার দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর সোনাদিয়া এলাকার এক সময়ের ত্রাস ও বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি নাগু মেম্বার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি। এদের মধ্যে নাগু মেম্বারের চাচাতো ভাই বতইল্যাও রয়েছেন, যাকে বুধবার সন্ধ্যায় আটক করেছিল উখিয়া থানা পুলিশ।
তবে এ ব্যাপারে পুলিশের কোনো সূত্রই নিশ্চিত করেননি।
এদিকে বন্দুকযুদ্ধে জড়িত অন্য ডাকাতদের আটকে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান ওসি আব্দুল মজিদ।