খুরশিদ জামান কাকন: সৈয়দপুরের মুন্সিপাড়া নিবাসী ২৫ বছর বয়সী এক তরুন যুবক ভুট্টু। তিনি অন্যসব যুবকের মতো সুস্থ স্বাভাবিক না হলেও জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার লড়াইয়ে সৃষ্টি করেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। জন্মগত ভাবেই শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়ে বেড়ে উঠা ভুট্টু দরিদ্র বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ছোট সন্তান। প্রতিবন্ধী হিসেবে বড় হয়ে উঠা ভুট্টু’র নিজ পায়ের উপর ভর দিয়ে দাড়ানোর শক্তি ও সামর্থ্য নেই। তবুও সে থেমে থাকে নি। জীবন যুদ্ধে লড়াই করে বেচে থাকার জন্যে এই কঠিন বাস্তবতায় খাপ খাইয়ে নিয়ে সকল বাধাবিপত্তিকে পিছনে ফেলে বেছে নিয়েছে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী পাইকারি রেটে দোকানে দোকানে বিলি করার ব্যবসা।
প্রতিদিন তার ছোট্ট গাড়ি করে হাতের শক্তির উপর ভর করে সৈয়দপুর বাজারের দোকানে দোকানে গিয়ে করছেন খাদ্যসামগ্রী বিক্রি। দিনশেষে তার ১২০ থেকে ১৫০ টাকার মতো কোনরকমে আয় হয়। যা দিয়ে তার সংসার চলার মতো না চললেও তিনি একটুও হতাশ নন। তিনি প্রতিনিয়ত মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তার ব্যবসার আয়ের প্রসার আরো বৃদ্ধি ঘটানোর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।
তরুন লড়াকু যুবক ভুট্টু’র সাথে আমাদের প্রতিনিধির হলে তিনি জানান, “আমার মতো প্রতিবন্ধীরা সমাজের চোখে অবহেলিত জীব হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু আমরাও তো মানুষ, আমাদেরও তো মানুষের মতো বাচার অধিকার রয়েছে। যদি প্রতিবন্ধী বলে আমাদেরকে অবহেলা না করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও কারিগরি শিক্ষা দেয়া হয় তাহলে আমরাও অনেক কিছু করতে পারবো। তিনি আরো জানান, “আমি সমাজের চোখে বোঝা হয়ে বাচতে চাই না, আমি নিজের কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে একজন আত্বনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে বাচতে চাই আমাদের এই প্রিয় সুজলা-সুফলা সোনার বাংলাদেশে।
লড়াকু এই দৃষ্টান্ত অর্জনকারী তরুন সৈনিকের শারীরিক শক্তি ও সামর্থ্য না থাকলেও হাজারো প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে প্রবল ইচ্ছার তাগিদে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন সংগ্রামী হিসেবে।