সিসি নিউজ: নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে র্যাব পরিচয় দিয়ে শরিফুল ইসলাম চৌধুরী (২৮) নামের তুলে নেয়া যুবককে গ্রেফতার দেখিয়েছে র্যাব-১৩। র্যাবের দপ্তর উড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ব্রাশ ফায়ার করে ক্যাম্পে উড়িয়ে দেবে আইএস, পারলে সরকার ঠেকাক’ মোবাইল ফোনে এমন বার্তা র্যাবের ব্যাবহৃত সরকারী মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে সে হুমকি দিয়েছে বলে র্যাব জানায়। র্যাব ১৩ রংপুর অঞ্চলের উপ-সহকারী পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাকে আজ সৈয়দপুর থানায় সোপর্দ করেছে। গ্রেফতারকৃত শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে র্যাবের দায়ের করা তথ্য প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে ৭ রিমান্ড আবেদন করেছে। আদালত তার রিমান্ড আবেদন শুনানির তারিখ নির্ধারন করে যুবককে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।
মামলার বিবরনে জানা যায়, জেলার সৈয়দপুর উপজেলা শহরের হাতিখানা এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে শরীফুল ইসলাম চৌধুরী। সে গত ৫ জুলাই নিজের মোবাইল ফোন থেকে র্যাবের নীলফামারী ক্যাম্পের সরকারী নম্বরে হুমকি দিয়ে একটি বার্তা পাঠায়। ওই বার্তায় তার দল আইএস এ হামলা চালাবে বলে উল্লেখ করা হয়। সেই সাথে র্যাবের দপ্তরসহ র্যাব সদস্যদের বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে এমন হুমকি দেওয়া হয়। তবে ৫ জুলাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় বিষয়টি জানা যায়নি। কিন্তু গত ১৫ জুলাই নতুন কর্মকর্তা মোবাইল ফোনটি নিয়ে মেসেজ পর্যালোচনা করলে হুমকির ঘটনাটি প্রকাশ পায়। পরে র্যাব মোবাইল ট্যাকিং করে ওই হুমকিদাতা যুবককে শনাক্ত করে। এরপর সন্দেহভাজন জঙ্গি হিসেবে তার ওপর গোয়েন্দা নজরদারী চালায়। এরই এ পর্যায়ে গত ১৬ জুলাই শনিবার সন্ধ্যায় র্যাব তাকে সৈয়দপুর শহরের পাঁচমাথা ফল মার্কেট মোড় থেকে আটক করে র্যাব-১৩ রংপুর ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে আটক যুবককে র্যাব কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায়, তার মোবাইল ফোনটি ৫ জুলাই সন্ধ্যায় হারিয়ে যায়। অথচ মোবাইলে হুমকি দিয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে ওইদিন দুপুরে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে মোবাইলে বার্তা পাঠানোর কথা স্বীকার করেন বলে র্যাবের মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরে তাকে গতকাল ১৭ জুলাই রবিবার রাতে গ্রেফতার দেখিয়ে সৈয়দপুর থানায় সোপর্দ করে র্যাব।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, গ্রেফতারকৃত শরিফুল ইসলামকে আজ সোমবার আদালতে হাজির করে জঙ্গিবাদের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্ট রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আদালত রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য্য করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে গ্রেফতারকৃত শরিফুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে র্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়ার লিখিত অভিযোগ সৈয়দপুর থানায় দায়ের করা হয়। গত ১৬ জুলাই শনিবার রাতে থানায় ওই অভিযোগ দায়ের করেন আটক শরিফুলের বোন নূরজাহান বেগম চৌধুরী।