আজমল হক আদিল, বদরগঞ্জ (রংপুর): অবশেষে রংপুরের পালিচড়া খান চৌধুরী একরামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপারের সার্টিফিকেট জালিয়াতির ঘটনাটি ফাস হয়ে গেলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় পড়ে যায়। এদিকে ধুর্ত সুপার আমজাদ হোসেন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন অফিস আদালতে দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন। অভিযোগ উঠেছে বর্তমানে ওই মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থা ভেস্তে গেলেও সুপার সাহেবের সেদিকে কোন খেয়াল নেই। তিনি এখন নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত আছেন।
সরেজমিনে এলাকাবাসী ও অভিযোগকারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, রংপুরের সদর উপজেলার সদ্যপুস্করনী ইউনিয়নে অবস্থিত পালিচড়া খান চৌধুরী একরামিয়া দাখিল মাদরাসা। ওই মাদরাসায় প্রধান পদে চাকরি করেন মাওঃ মোঃ আমজাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি। মাদরাসায় শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন একাধিক শিক্ষক থাকলেও ধুর্ত সুপার আলিম পাশের ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে প্রধান পদে চাকরি করছেন। শুধু তাই নয়, সুপার মাওঃ মোঃ আমজাদ হোসেনের ভুয়া সার্টিফিকেটের মত তার অভিজ্ঞতার সনদপত্রটি ভুয়া বলে চিহিৃত করা হয়। তথাপিও তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের চোখে ধুলো দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাকরিতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এঘটনায় স্থানীয় শাহিন আলম নামে এক ব্যক্তি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারী শাহিন আলম বলেন, মাওঃ মোঃ আমজাদ হোসেন ১৯৮৯সালে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কাজীহাল দাহসাতিয়া মাদরাসা থেকে আলিম পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। যার রেজিঃ নম্বর ৯৮৩৯, রোল নম্বর ১২৩৪৫, সেশন ১৯৮৬/৮৭, পাশের বিভাগ তৃতীয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সুপারের ফলাফলটি স্থগিত হলে তিনি পুনরায় পরিক্ষা না দিয়ে দালালের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একই নম্বরের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ভুয়া সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে তার চাকরি পাকাপোক্ত করেন। অভিযোগকারী আরো বলেন, মাদরাসাটিতে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত কমিটি নেই। সুপার সাহেব তার অনুসারীদের দিয়ে একটি মনগড়া কমিটি গঠন করে নিজের খেয়াল খুশিমত প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠাতা খান চৌধুরীর সম্মান ধুলোয় মেশানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
এবিষয়ে মাদরাসার সুপার মাওঃ মোঃ আমজাদ হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকালে তিনি দাম্ভিকতার সহিত বলেন, এর আগেও আমাকে নিয়ে একাধিক পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করা হয়েছে। আপনারা সাংবাদিকরা শুধু আমার বিরুদ্ধে লিখতে থাকেন আর আমি প্রতিবাদ দিতে থাকব।