সিসি ডেস্ক: উজান ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি আবারো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার সকাল ৬টা থেকে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার প্রবাহ ছিল বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপরে। তিন ঘণ্টার ব্যাবধানে রাত ৯টায় বিশেষ ব্যবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তার পানি প্রবাহ পেয়েছে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপরে।
সেই সঙ্গে তিস্তার উত্তাল ঢেউ আর শোঁ শোঁ শব্দ তিস্তাপাড়কে কাপিয়ে তুলছিল। রাতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা ও লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা ও কালিগঞ্জ উপজেলার তিস্তার চর ও চর গ্রামে বসবাসরত মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয় জনপ্রতিনিধিরা।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) ১৮ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে সন্ধ্যা ৬টায় তা বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপরে চলে যায়। রাত ৯টায় সেটি আরো বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
ধারণা করা হচ্ছে উজানের ভারি বৃষ্টিপাত ও গজলডোবার জলকপাট খুলে দেয়ায় তিস্তার প্রবাহ দুর্বার গতিতে বাংলাদেশে ধেয়ে আসছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারেজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানালেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান।
তিনি জানান, কী পরিমাণ উজানের ঢল আসছে তা মনিটরিং করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে তিস্তা ব্যারাজ ও ফ্লাড ফিউজ এলাকা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
ভারতের জলপাইগুড়ি, কুচবিহার এলাকার বাংলাদেশ অংশে প্রবেশদার মেখলিগঞ্জ পর্যন্ত তিস্তা অববহিকায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
ঝুনাগাছ চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ছাতুনামা ও ভেন্ডাবাড়ী গ্রামে ৭শ পরিবারের বসতভিটা হাটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে।
টেপাখঢ়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন, টাবুর চর, জিঞ্জির পাড়া, একতার চরসহ আশেপাশের ১০টি গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারের বসতভিটা কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। সরকারিভাবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বাঁধে আশ্রয় নিলেও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, উপজেলার তিস্তা নদী সংলগ্ন ৭টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য তথ্যকেন্দ্র চালু করা হয়েছে।